প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফেনীর পরশুরামের স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে ফারজানা আক্তার প্রিয়া (১৪) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার সময় উপজেলা পরিষদ গেইটের সংলগ্ন ‘কাদের টাওয়ার’-এর তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় পুলিশ কর্তৃক। পরে মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ফারজানা আক্তার প্রিয়া নোয়াখালী জেলার সেবারহাটের সাইফুল ইসলামের কন্যা। তবে পুলিশ গৃহকর্মী প্রিয়ার মা-বাবা কিংবা কোন স্বজনের খোঁজ পায়নি।
জানা গেছে, ফারজানা আক্তার প্রিয়া গত তিন বছর ধরে উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। স্কুল শিক্ষক জাহেদা আক্তার তার ৮ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে একা থাকেন। উল্লেখ্য, জাহেদার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। পুলিশ স্কুল শিক্ষক জাহেদা আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
জাহেদা আক্তার তিমু উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন তালুকদারের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ‘K+P’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘটিত কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, প্রিয়ার বাবা-মা দুজনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটনের পর উভয়ে অন্যদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং নিরুদ্দেশ হয়ে যান। প্রিয়ার নানী এক ব্যক্তির মাধ্যমে সেই শিক্ষিকার বাসায় কাজের জন্য দেন। ইতোপূর্বে একবার প্রিয়া শিক্ষিকার বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং এর পর পরশুরাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। খোঁজ পেয়ে তাকে আবার জোরপূর্বক বাসায় কাজে নিয়ে আসেন শিক্ষিকা। উল্লেখযোগ্য, প্রিয়া মুঠোফোন ব্যবহার করতেন না, বলেছিলেন গৃহকর্তী।
স্থানীয়রা আরও জানান, স্কুল শিক্ষিকা বিভিন্ন অজুহাতে গৃহকর্মী প্রিয়াকে বকাবকি করতেন। বিশেষ করে বুধবার (২২ জুলাই) রাতে বকাবকি করার পর প্রিয়া বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১০ টা পর্যন্ত কাদের টাওয়ারের ছাদে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই বাসার একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে প্রিয়া আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে প্রিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহেদা আক্তার তিমু বলেন, গৃহকর্মী প্রিয়াকে একা বাসায় রেখে আমি সকালে স্কুলে চলে যাই। বিকেলে বাসায় এসে অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় টাওয়ারের কর্মচারীর সহায়তায় দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তার মরদেহ ঝুলতে দেখি এবং পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে রাত ৯ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন