প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
এ সময়, তাদের কবল থেকে এক জিম্মি জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বনদস্যু বাহিনীগুলো চরম চাপে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
আত্মসমর্পণের সময় তারা ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের হেফাজতে থাকা এক জিম্মি জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আত্মসমর্পণকারীরা হচ্ছেন বাগেরহাটের মোংলা থানার বাসিন্দা আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা থানার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা থানার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ১০ রাউন্ড গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে, ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং দস্যুদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন, জব্দকৃত অস্ত্রের আইনগত কার্যক্রম এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের অবশিষ্ট সক্রিয় দস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায়, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে বাহিনী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন