প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬ : কিলিয়ান এমবাপ্পে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের বিশাল জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই জয়টি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্লাবটির কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোর ঘরের মাঠে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে।
ম্যাচের সময় ভিনিসিয়াস জুনিয়রও একটি গোল করেন। জুড বেলিংহাম দুটি গোলে সহায়তা করেন। এই তিন তারকার অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে মাদ্রিদ বাস্ক অঞ্চলের দলের উপর সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
গত শনিবার নিজের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচের একই একাদশকে মাঠে নামান অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ মরিনহো।
মরিনহো মন্তব্য করেন, দলের সবচেয়ে বড় তিন তারকাকে একই সঙ্গে সেরা ছন্দে খেলা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এই ম্যাচে তার সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ দেখা গেছে।
এমবাপ্পের প্রশংসা করে মরিনহো বলেন, “এই ছেলেটি অবিশ্বাস্য।” তিনি রিয়ালের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, “রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়ার জন্য তাকে সত্যিই ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে। আর আমি এমন একটি দল দেখতে পাচ্ছি, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে তার মতোই অসাধারণ হলেও দলটির কথা না বলে পারছি না।”
ম্যাচ শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ভিনিসিয়াসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এমবাপ্পের নিচু শট আলেক্স রেমিরো রুখে দেন। অন্য প্রান্তে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া মিকেল ওইয়ারসাবালের শট দারুণভাবে রুখে দেন।
এমবাপ্পের পাস থেকে ভিনিসিয়াসের শটও রেমিরো ঠেকান। রিয়াল সোসিয়েদাদের সার্জিও গোমেজের ভলি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
বিরতির পাঁচ মিনিট আগে গোলের দেখা পায় মাদ্রিদ। ফেডেরিকো ভালভার্দের পাস পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এমবাপ্পে। লা লিগায় গত দুই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফরাসি ফরোয়ার্ড বুদ্ধিদীপ্তভাবে প্রতিপক্ষের মার্কিং এড়িয়ে বলটি উপরের কোনায় পাঠিয়ে মৌসুমে নিজের প্রথম গোল করেন।
রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে অধিনায়ক ভালভার্দে বলেন, “এটা অসাধারণ, অবিশ্বাস্য, এমবাপ্পেকে পাওয়া সত্যিই দারুণ। তার খেলা আমাদের উপভোগ করতে হবে এবং যতটা সম্ভব তার কাছ থেকে সর্বোচ্চটা নিতে হবে। আমাদের তাকে হাজারটা বল দিতে হবে, যাতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, গোল করতে পারে এবং খুশি থাকে।”
তবে গত মৌসুমের কোপা দেল রে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরতির আগেই সমতায় ফিরে। জব ওচিয়েং বল নিয়ে কিছুটা দেরি করেন এবং তার শট ব্লক হয়ে যায়। তবে বলটি চলে যায় লুকা সুসিচের কাছে। আলভারো কারেরাসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করা শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান সুসিচ।
ভালভার্দে জানান, দ্বিতীয়ার্ধে প্রেসিংয়ের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিল মাদ্রিদ, যার সুফল তারা পেয়েছে।
উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার বলেন, “তাদের অর্ধে বল ফিরিয়ে আনতে আমাদের বেশ কঠিন লাগছিল... আমরা সেটি সামঞ্জস্য করেছি এবং দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছি।”
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরদা গুলের পাস থেকে এমবাপ্পে বল পান, কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন রেমিরো। কিছুক্ষণ পর এমবাপ্পের পরের প্রচেষ্টার সামনে স্প্যানিশ গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।
ভালভার্দে ও এরপর বেলিংহামের সমন্বয়ে তৈরি একটি সুন্দর আক্রমণে বেলিংহাম এমবাপ্পেকে বল বাড়িয়ে দেন। এমবাপ্পে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন।
এরপর গোল করেন ভিনিসিয়াস। এতক্ষণ পর্যন্ত নীরব থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে গোলটি পেতে সহায়তা করেন বেলিংহাম। ইংলিশ মিডফিল্ডারের শট ব্লক হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। রিয়াল সোসিয়েদাদের বক্সে বলটি পুনরুদ্ধার করে ভিনিসিয়াসের সামনে তুলে দেন। ভিনি সহজেই বল জালে ঠেলে দেন।
গোল করার পর আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়াস। নিখুঁত পাসে এমবাপ্পেকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। এমবাপ্পে রেমিরোর মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে বল তুলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে রেকর্ড মূল্যে রিয়ালে যোগ দেওয়া ইয়ান দিয়োমান্দের জন্য ভিনিসিয়াসকে তুলে নেন মরিনহো। মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করার তৃপ্তি ছিল তার মুখে।
গত মৌসুমে অক্টোবরে বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্লাসিকো জয়ের সময় জাবি আলোনসো তাকে বদলি করায় ক্ষুব্ধ হওয়ার পর থেকেই রিয়ালের মৌসুমের ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করেছিল। তবে সম্প্রতি ২০৩২ সাল পর্যন্ত ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি বাড়ানো ভিনিসিয়াস এবার ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন