প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য স্থির করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা গত অর্থবছরের তুলনায় কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য প্রায় ৫৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। গত অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও উট পালন কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ওই অনুষ্ঠানে সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চলতি অর্থবছরের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য, খাত এবং নতুন বিষয়গুলো বিস্তারিত জানানো হয়।
নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণের জোগান নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে নতুন কৃষি ও পল্লি ঋণ কর্মসূচি।
প্রকৃত কৃষকদের কাছে ঋণ পৌঁছে দিতে নতুন নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষক কার্ড সংগ্রহের তথ্য হিসেবে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। শস্য ও ফসল খাতে আয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রমে যুক্ত কৃষকদের জন্য পল্লি ঋণ বিতরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমা শিথিল করা হয়েছে।
কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে পাস বই থাকা বা ইস্যুর বিষয়টিও আবশ্যিকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এ মুহূর্তে ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এসব কৃষকের অর্থায়ন সহজ করতে জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় মৎস্য চাষ ও প্রাণিসম্পদ খাতে একক বা দলবদ্ধ কৃষক ও খামারিদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালন কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় এসেছে। পুনঃ অর্থায়নসংক্রান্ত নীতিমালায় ১০ হাজার কোটি টাকা ও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহককে বিমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি নতুন নীতিমালায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে বিমা সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সারা বছর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে কয়েকটি ফলের চাষেও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচু চাষে ঋণ বিতরণের সময় এবং ফসল সংগ্রহের পর ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রান্তিক-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি ও টেকসই অর্থনীতি সৃষ্টির জন্য কৃষি ও পল্লি খাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান প্রয়োজন। কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে নতুন কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন