প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণার পরেও বাস্তবে সে বিষয়টি কার্যকর হয়নি। এখনও প্রতি মাসে গ্রাহকদের মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ এবং ভ্যাট গুনতে হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জের কারণে অসন্তোষ বাড়ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা আবদুর রহমান প্রিপেইড মিটারে ১ হাজার ৫০০ টাকা রিচার্জ করেছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছে আসলো ১২৬৯ টাকার বিল। বাকি ২৩১ টাকা কেটে নেয়া হয়েছে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়ার মধ্যে।
তিনি জানান, ‘বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, চার্জ সব উঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু তাই হয়নি। এর অর্থ, বিদ্যুতের দাম বাড়ার সাথে সাথে চার্জ আগের মতোই রয়ে গেছে। এটি আমাদের জন্য একটি বাড়তি চাপ।’
গত ২৫ মে সরকারি শততম দিন পূর্তির সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘোষণা দিয়েছিল, প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছিলেন, ‘জনদুর্ভোগ লাঘব করার জন্য সাধারণ জনগণের জন্য আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
তবে, সরকারি ঘোষণা কার্যকর হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে গ্রাহকরা অবগত নয়। বরং, জুন মাস থেকে তাদের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল গুণতে হচ্ছে। সেই সাথে মাসে মাসে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়া কেটে নেয়া হচ্ছে।
প্রিপেইড মিটারের বিষয়ে শুরু থেকেই ছিল অনেক প্রশ্ন। বর্তমানে এই প্রিপেইড মিটার চার্জ নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অবস্থান জানানো হচ্ছে এক রকম, বাস্তব চিত্র বিপরীত। গ্রাহকরা তাই স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়াশায় আছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে।
বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, গ্রাহকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সরকার এটি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের গ্রাহকদের সাথে এই লুকোচুরি খেলাকে প্রতারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেছেন, ‘সরকারের আদেশ মানা না হওয়া প্রশাসনের একটি বড় বিপর্যয়। এটি সুশাসনের সংকটের ভয়াবহ আলামত। তাই, এটাকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়।’
বর্তমানে দেশে ৫ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন