প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ভুক্তভোগী ছিল ছাত্রশিবির, এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ। তিনি মন্তব্য করেন, শিবিরের কার্যক্রমের কারণে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া ছিল প্রতিদিনের ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নবীন উৎসব ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
এ সময় সিগবাতুল্লাহ বলেন, শিবির করার সন্দেহে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ইসলামের পক্ষে, দেশের স্বার্থে এবং ভারতের বিপক্ষে লিখলেই শিবিরের তকমা দেওয়া হতো। তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিশ্বজিৎ নামের এক হিন্দু ছাত্রকেও শিবিরের তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবির নির্যাতিত হয়েছে।
তিনি ২০২৪ সালের পর প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিবিরের শক্ত অবস্থান ছিল উল্লেখ করে বলেন, ছাত্রশিবিরের শক্ত অবস্থানের কারণে নতুন করে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু হয়নি।
সিগবাতুল্লাহ মন্তব্য করেন, একটি ছাত্রসংগঠন গণরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে ব্যস্ত। তিনি বলেন, "যদি কেউ নতুন করে গেস্টরুম-গণরুম চালু করতে চায়, তাদের ইসলামী ছাত্রশিবিরের রক্তের ওপর দিয়ে যেতে হবে।"
নবীন শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে সিগবাতুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিদ্যমান কাঠামোয় রাজনীতি কাম্য নয়। তিনি জানান, আমাদের ক্যাম্পাস রাজনীতির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির কোনো দলের অঙ্গসংগঠন নয়। প্রয়োজনে এই শিবির তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম জিয়ার মিছিলে দেশের স্বার্থে অংশ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জনসংযোগ সম্পাদক নুমায়ের আব্দুল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নৈতিক বিকাশ ও নেতৃত্ব তৈরির বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৬০০ নবীন শিক্ষার্থীর মধ্যে আল-কোরআন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোসমৃদ্ধ কলমদানি ও চাবির রিং, কলম এবং সংগঠনটির প্রকাশিত বই উপহার দেওয়া হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন