প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ বিভাগের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলকভাবে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি বাণিজ্য করার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে বরিশাল কীর্তনখোলা তীরের জনপদ থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং তারা হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন। মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়বে। সেই সময়ে কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে পদোন্নতির মাধ্যমে মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদেরসহ সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং বিএনপি নেতাকর্মীদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে। সূত্র জানাচ্ছে, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালাতে থাকে। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো গ্রেপ্তারে দেখাবেন, সেই বিষয়গুলো নিয়ে ওসি মিজান বাণিজ্য করতেন। আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা হলেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলার সাহস দেখাননি। তবে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে, তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানায় নামিয়ে দেওয়া হলে তিনি সেখানে গিয়েও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তার ব্যক্তিগত নির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারেননি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ মহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষকে জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে পড়ে। দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব, তার বদলি যে শাস্তিমূলক, তা বলার প্রয়োজন নেই। ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তি প্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত দুই বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ সাধন করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছেন। এর সাথে কজন যুবকও জড়িত ছিল, তাদের একজন হচ্ছে মারযুক আব্দুল্লাহ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করেছেন, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানার এলাকা নির্দেশ করা হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটির উদ্ভব হওয়ায় তুমুল বিতর্ক তৈরির পাশাপাশি কমিশনারের রোষানলে পড়ার সম্ভাবনা জন্মে। সেই প্রেক্ষাপটে, বরিশাল পুলিশের উচ্চ মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে খুলনায় বদলি করা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশের কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, "হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন