প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মোবাইল ফোন বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কাজ এবং বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পুরুষ প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখেন। কিন্তু এই অভ্যাস শুক্রাণুর গুণমান ও পুরুষের প্রজননক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
গবেষণায় মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গ ও তাপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। বিশেষ করে পকেটে ফোন রাখার ফলে শুক্রাণুর ক্ষতি হয় বা বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সীমিত।
মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গ নিয়ে গবেষণায় কী তথ্য পাওয়া গেছে?
মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ হলো এক ধরনের নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। এক্স-রের মতো আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় এর শক্তি অনেক কম। তবে দীর্ঘ সময় এই তরঙ্গের সংস্পর্শে থাকলে শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, তা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ৩৯টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে শুক্রাণু এবং প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু পরীক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার সুস্পষ্ট সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতে মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ এবং পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে কি ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়?
প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে এটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি অবস্থান করে। এর ফলে ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ ও উৎপন্ন তাপ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ রয়েছে।
তবে শুধুমাত্র পকেটে ফোন রাখার কারণে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করতে পারে ফোনের নির্গত শক্তি, ব্যবহারের ধরন, সংস্পর্শের মাত্রা ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর।
গবেষণায় সামনের পকেটে ফোন বহনের সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব, মোট সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতার সম্পর্কের বিষয়ে প্রমাণ এখনও অনিশ্চিত। তাই পকেটে ফোন রাখাকে সরাসরি পুরুষের বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক হবে না।
ফোনের তাপ কি শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে?
শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে শুক্রাণু উৎপাদন ও গুণমান প্রভাবিত হতে পারে।
কিন্তু মোবাইল ফোন পকেটে রাখার ফলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে সেটিকে শরীরের সঙ্গে চেপে না রেখে ঠান্ডা হতে দেওয়া উচিত। তবে ফোন থেকে তাপ তৈরি হওয়া এবং সেই তাপের কারণে প্রজননস্বাস্থ্যে বাস্তব ক্ষতি হওয়া এক বিষয় নয়।
শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার অন্যান্য কারণ
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, চলাচলের ক্ষমতা দুর্বল হওয়া কিংবা গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। তবে বীর্য পরীক্ষায় কোনো একটি সূচকের ফল অস্বাভাবিক হলেই একজন পুরুষকে বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত বলা যায় না।
পুরুষের প্রজননক্ষমতায় বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, স্থূলতা ও কিছু বিপাকীয় সমস্যা, নির্দিষ্ট সংক্রমণ ও হরমোনজনিত সমস্যা।
কিছু ওষুধের ব্যবহার
অণ্ডকোষের নির্দিষ্ট রোগ ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ। এ ছাড়া বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও জীবনযাপনের অন্যান্য অভ্যাসও প্রজননস্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে করণীয়
মোবাইল ফোনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চললেও প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ফোন পকেটে রাখার প্রয়োজন না হলে ব্যাগে বা শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে। তবে এতে শুক্রাণুর গুণমান বাড়ে বা বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ হয়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
এছাড়া ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান বাড়ানোর দাবিতে বাজারে বিক্রি হওয়া সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার না করাই ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও এক বছর গর্ভধারণ না হলে দম্পতির উভয়েরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পর প্রজননস্বাস্থ্য মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়। আগে থেকেই প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা জানা থাকলে আরও আগেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্য পরীক্ষা বা সিমেন অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা, চলাচলের ক্ষমতা ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক অন্যান্য পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
শুধু পকেটে মোবাইল ফোন রাখার কারণে বীর্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক নয়। তবে সন্তান ধারণে সমস্যা হলে বা প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যা জানা জরুরি
প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে শুক্রাণুর ক্ষতি হয় কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত মিললেও মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল একরকম নয়। ফোনের অবস্থানের সঙ্গে পুরুষের প্রজননক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণও সীমিত।
সুতরাং এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চাইলে সতর্কতামূলকভাবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারেন। তবে প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন