প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আক্রান্ত হয়ে বাবুরাম দেবসিংহ (৩১) নামে একজন রাজমিস্ত্রি শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। বাবুরামের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ। এ মামলা তদন্তের পাশাপাশি মরদেহের ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে আগের ঘটনা এবং মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া। এই ঘটনাটি ঘটেছিল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা জামুড়ীতলী গ্রামে। বাবুরাম দেবসিংহ, চিলাহাটি ইউনিয়নের বলরামপুর নিজধাম গ্রামের মৃত আর্যমোহন দেবসিংহের ছেলে ছিলেন এবং তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী শ্রমিক ছিলেন। ঘটনায়, গৌতম চন্দ্র রায় নামে আরেক শ্রমিক দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যেখানে অপর শ্রমিক ভাগ্য রায় সুস্থ বোধ করায় বাড়িতে ফিরে গেছেন। মামলার এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, অমরখানা জামুড়ীতলী এলাকার বাসিন্দা ও শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন (৩৮), বাবুল হোসেন (৪৪), জুয়েল ইসলাম (৩৩), বলরামপুর প্রগতিপাড়া এলাকার উত্তম রায় (২৮), লাভলী বেগম (৪২), রানা সরকার (২৬), সাইফুল ইসলাম (২৭), মজিবুল ইসলাম (৫৪)। মামলার এজাহারের অনুসারে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্ত রাব্বি ও উত্তম রায় বাবুরাম দেবসিংহকে তাদের নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংক সংস্কারের জন্য ডেকে নিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, সেপটিক ট্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা দিয়ে বন্ধ থাকার কারণে ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে গিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এবং কোনো সতর্কতা না মেনে বাবুরামকে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্যাংকে প্রবেশের পর বাবুরাম বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করার কোনো উদ্যোগ না নেয়া, যার ফলে বাবুরাম সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। পরবর্তীতে আসামিরা বাবুরামের মৃতদেহ সেপটিক ট্যাংক থেকে বের করে একটি অটোভ্যানের মাধ্যমে নিহতের গ্রামের বাড়ি বলরামপুর নিজধামে বাড়ির উঠানে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই দেবীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেবীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহের পক্ষে অভিযুক্ত ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের চাচা বলেন, বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা এবং সময়মতো উদ্ধার না করার কারণেই রাজমিস্ত্রি বাবুরামের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তারা এ ঘটনায় জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। মামলার প্রধান আসামি ও শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। অপরদিকে বাড়ির মালিক নবির হোসেন বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। ঘটনার দিন শ্রমিকরা মূলত জানালার কাজ করতে এসেছিলেন এবং সেফটি ট্যাংকটি প্রায় দেড় মাস আগে ওই মিস্ত্রিরাই নির্মাণ করেছিলেন। জানালার কাজ শেষ হলে হেড মিস্ত্রি উত্তম রায়ের নির্দেশে শ্রমিকরা সেন্টারিং খুলতে ট্যাংকের ভেতরে ঢোকেন। আমাদের পরিবারের কেউ শ্রমিকদের ট্যাংকের ভেতরে ঢুকতে বাধ্য করেনি। আমার মা তখন বাড়িতে একা ছিলেন এবং শ্রমিকদের ডাকাডাকি শুনে চিকিৎসার জন্য এগিয়ে গিয়ে তাদের অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেছে। এদিকে অন্য এক শ্রমিক ভাগ্য রায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বলেন, হেড মিস্ত্রি বাবুরাম ও গৌতমকে সেফটি ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বলেন। প্রথমে বাবুরাম, পরে গৌতম ভেতরে ঢোকে। তাদের বের করতে আমি নিজেও ভেতরে ঢুকে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে যখন জ্ঞান ফিরলে দেখি, আমাকে অটোতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাবুরাম বা আমরা এ ধরনের কাজ আগে কখনো করিনি। দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সময় সংবাদকে জানিয়েছেন যে, মূলত অবহেলার অভিযোগ তুলে গভীর রাতে নিহতের চাচা মামলাটি দায়ের করেছেন। এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন