প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগে কোনো ফল আসবে না। এর আগে ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস পরেও দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।
তেহরান থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে খবরটি জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে দেশে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক চাপের দিকে ঝুঁকেছেন। তিনি নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পাশাপাশি এতে যোগ না দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন।
তবে, কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা সামলে আসা ইরান এখনও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চাপ মোকাবিলার জন্য তাদের কাছে দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার বলেন, ‘এই পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে আমেরিকা কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না। যুদ্ধেও তারা কিছু অর্জন করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেভাবে করেছি, সেভাবেই অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় থাকব এবং তা অব্যাহত রাখব।’
এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, যুদ্ধের সময় দুর্বল হয়ে পড়া সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সব অস্ত্রব্যবস্থার পুনর্নির্মাণ এবং বিদেশ থেকে নতুন সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে, দেশটির প্রায় ১০০ শতাংশ সামরিক কারখানা ধ্বংস করেছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কবর দিয়েছে।’
বেসেন্ট বলেন, নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করে বর্ধিত মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
-‘তাড়াহুড়ো করছি না’-
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। তারা ইরানের কথিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার অঙ্গীকার করে এবং তেহরানের সরকার উৎখাতের হুমকিও দেয়।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্টা হামলা চালায় এবং তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজগুলো বড় বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে তেলের দাম বেড়েছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রায়ই বলেন, একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি। তবে পরে তিনি কূটনীতি থেকে সরে আসেন।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য কত সময় দিচ্ছেনÑএ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বুধবার বলেন, ‘আমার কোনো সময়সীমা নেই, একেবারেই নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না। আমার কোনো সময়সীমাই নেই।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছিÑকোনো চুক্তি হতে পারে না।‘ ইরানের নেতাদের তিনি ‘বর্বর’ বলেও অভিহিত করেন।
-‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’-
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলবে না। প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতেও তারা প্রায়ই হামলা চালিয়েছে।
তেহরান আরও জানিয়েছে, প্রণালী ব্যবহারের জন্য তারা ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এর তীব্র বিরোধিতা করছে।
ট্রাম্প দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। এমনকি তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বলেও অভিহিত করেছেন। তবে সেখানে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের মাত্রার তুলনায় অনেক কম রয়েছে।
ইরানের বিপরীত পাশে অবস্থিত ওমান তেহরানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে। এর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।
বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা থেকে আদায় করা যেকোনো রাজস্ব ভাগাভাগি করতে সম্মত হয়েছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার কাজে যুক্তরাষ্ট্র ‘বাধা সৃষ্টি করছে’ বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি মঙ্গলবার বলেন, তিনি আশা করছেন, তার দেশ ও ইরান ‘শিগগিরই’ অস্থায়ী নৌপথ চালুর ঘোষণা দেবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়ে চুক্তি হলে সেটির বিকল্প হিসেবে একটি স্থায়ী নৌপথ নিয়ে আলোচনার জন্য ইরান ও ওমান ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় পাবে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় রেভল্যুশনারি গার্ডসও যুক্ত রয়েছে। আলোচনায় থাকা মানচিত্রগুলো সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন