প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের প্রত্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছে গেছে। কর্মকর্তারা বুধবার এ তথ্য দিয়েছেন।
সোমবার হিমালয়ঘেরা সিকিম রাজ্যের নামচি জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে তিস্তা নদীর ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য শ্রমিকরা সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানিয়েছে।
সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালক রাজীব রোকা এএফপিকে বলেছেন, ‘আটকে পড়া ২৫ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও সাত থেকে আটটি মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে পানি জমে থাকার কারণে এবং ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হলে উদ্ধারকাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজীব রোকা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সেখানে প্রায় আড়াই ফুট পানি জমে থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সেখানে আর কোনো ব্যক্তি জীবিত নেই।’
সম্প্রতি মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে ওই অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ হয়েছে।
ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, শিলার মধ্যে আটকে থাকা বা সন্নিবেশিত সন্দেহভাজন মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে আসার কারণে ঘন ধোয়া ও বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়েছে, যা সুড়ঙ্গ ধসের ঘটনায় সহায়ক হয়েছে।
বিবৃতিতে এটি উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্ত চলবে।’
ভারতের বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলিতে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পরিবেশগত দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।
২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিমালয়ের একটি সড়কে সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। ১৭ দিন পর তাদের জীবিত উদ্ধার করা পার হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন