প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, টেকসই শিল্পায়ন এবং উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে বিজিএমইএ এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রেগুলেটরি জটিলতা দূরীকরণ, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এ বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিজিএমইএ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, শাহ রাঈদ চৌধুরী, নাফিস-উদ-দৌলা এবং রুমানা রশীদ।
ওকাইবের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই.সি.-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি চ্যান, ক্লিফ রেন, লিসা লু, জোয়েল ওং, উপ-সাধারণ সম্পাদক জেসি ইউ এবং নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ঝাংসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব হলোÑ তৈরি পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে সরাসরি চীনা বিনিয়োগ ও যৌথ অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণে সহযোগিতা, কাস্টমস ও বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা দূর করে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, সার্কুলার ফ্যাশন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সবুজ শিল্পায়ন, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।
বৈঠকে ওকাইবের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য পুরনো জ্যাকর্ড মেশিন ফেরত নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন সরবরাহে একটি ‘বিনিময় নীতি’ চালুর প্রস্তাব দেন। তবে, কাস্টমস জটিলতা ও প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলেও তাঁরা তুলে ধরেন।
বিজিএমইএ নেতারা এসব রেগুলেটরি জটিলতা দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করার আশ্বাস দেন। এ ছাড়াও স্থানীয় উদ্যোক্তা ও চীনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথাও জানান।
বিজিএমইএ নেতারা আরও বলেন, বর্তমানে সংগঠনটি সার্কুলার অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেশের পোশাক শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম করে তুলবে। তাঁরা এ কথাও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্য সংযোজিত (হাই-ভ্যালু) ও টেকসই পোশাক উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এ খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন