প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার নিমসার এলাকায় নির্মিত পণ্যবাহী যানবাহন চালকদের জন্য আধুনিক বিশ্রামাগার চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার পর এটি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইজারা প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্রামাগারটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, উক্ত প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দূরপাল্লার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালকদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক বিশ্রামের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং চালকদের ক্লান্তিজনিত সড়ক দুর্ঘটনা কমানো।
২০১৯ সালের শুরুর দিকে, একশত কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লার নিমসার এলাকায় প্রায় ১৩ একর জায়গায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এতে চারতলাবিশিষ্ট দু’টি ভবনে একসাথে প্রায় ১০০ জন চালকের থাকার ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়াও, শতাধিক পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য পার্কিংয়ের সুবিধা, বিশ্রামকক্ষ, নামাজের স্থান, গোসলখানা, ক্যান্টিন, চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এবং চালকদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ যদিও, ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বিশ্রামাগারটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বিশ্রামাগার পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে চার দফাতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইজারা কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য বিশ্রামাগার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। ইজারাদারের জন্য ১২ মাসের ইজারা মূল্যের সমপরিমাণ নিরাপত্তা জামানত জমা দেওয়ার পাশাপাশি কর-ভ্যাটসহ সরকারি সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব সওজ বিভাগে জমা দেওয়া, অবকাঠামো ও পার্কিং এলাকা রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সিসিটিভি স্থাপন, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক।
চালক ও সহকারীদের নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে বিশ্রামাগারের সুবিধা ব্যবহার করতে হবে। প্রবেশের সময় তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র যাচাই করা হবে। বিশ্রামাগারে মাদক ও জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে।
সেবার মূল্য অনুযায়ী, অতিভারী পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য প্রথম পাঁচ ঘণ্টার পার্কিং ফি ১৫০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘণ্টার জন্য ৩০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য প্রথম পাঁচ ঘণ্টার জন্য ১০০ টাকা এবং পরে প্রতি ঘণ্টায় ২০ টাকা দেয়ার নিয়ম, মাঝারি যানবাহনের জন্য যথাক্রমে ৭৫ ও ১৫ টাকা এবং হালকা পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য প্রথম পাঁচ ঘণ্টায় ৫০ টাকা ও পরবর্তী প্রতি ঘণ্টায় ১০ টাকা দিতে হবে।
এছাড়া, বিশ্রামকক্ষ ব্যবহারের জন্য প্রথম পাঁচ ঘণ্টার ভাড়া ১৫০ টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি ঘণ্টার জন্য ৩০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। টয়লেট ব্যবহারের ফি ৫ টাকা, গোসলের জন্য ১০ টাকা এবং টয়লেট ও গোসলখানা একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইলে ১৫ টাকা দিতে হবে।
ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই ধরনের বিশ্রামাগার অনেক আগে চালু হওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘ যাত্রার পথে মহাসড়কের পাশে গাড়ি রেখে বিশ্রাম নিতে গিয়ে চালকদের মালামাল চুরি, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকতে হয়েছে। বিশ্রামাগার চালু হলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
কাভার্ডভ্যান চালক রুবেল মিয়া বলেন, দূরপাল্লার যাত্রায় বিশ্রাম, গোসল, খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে গাড়ির ছোটখাটো মেরামতের সুযোগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিমসারের বিশ্রামাগারটি নিরাপদ পরিবেশে এসব সেবা নিশ্চিত করবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বাসস-কে জানিয়েছেন, কুমিল্লার নিমসার বিশ্রামাগারের জন্য চারবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইজারা চূড়ান্ত হওয়ার আশা রয়েছে। এরপরই বিশ্রামাগারটি চালু হবে, যেখানে দূরপাল্লার পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতেও সহায়ক হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন