প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রাম বর্তমানে অনেকটা জনশুন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি রিয়াজ ফকিরের (২৬) পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন মিছিল করে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। তারা থানার ভাঙচুরসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করেছে। এ ঘটনার পর মামলার দায়েরের কারণে গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ ও নারী বাড়ি ছাড়া হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। স্থানীয়দের মতে, গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অপরদিকে, থানার পুলিশ দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ জন নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা এজাহারে নামোল্লেখ করা আসামিরা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এজাহারে নামের তালিকা বিতর্কিত বলে স্থানীয়রা মনে করেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকা ফুলশ্রী গ্রামের লোকজনের নাম উল্লেখ থাকলেও রাজিহার এবং গৈলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মামলায় দুই সাংবাদিক নেতার নাম আসার বিষয়টি সম্পূর্ণ রহস্যজনক বলে জানিয়েছেন আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এই বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেন সঠিক তদন্ত করে অন্যায়ভাবে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার জন্য এবং প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানান। বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, থানায় হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য উপাত্ত দ্বারা হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জুনিয়র সদস্যদের সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে। জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরপরেও এলাকার অধিকাংশ মানুষ আত্মগোপনে রয়েছেন। থানার সূত্রমতে, রিয়াজ ফকিরকে গত সপ্তাহের বুধবার চুরি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় থাকার সময় তিনি লোহার দরজার সঙ্গে মাথায় আঘাত করেন এবং জ্ঞানহীন হয়ে পড়েন। পরে তাকে hospitalized করা হয় এবং মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে থানা আক্রমণ করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা হয়েছে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন