প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে রড ও সিমেন্টের দাম। মঙ্গলবার থেকে প্রতি টন রডের দাম গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্মাণকাজ কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে রডের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালের মার্চে প্রতি টন রডের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বৃদ্ধি পায়।
তবে ২০২৪ সালের পর রড ও সিমেন্টের দাম তুলনামূলকভাবে কমে আসে। এর ফলে নির্মাণকাজ ও চাহিদাও কমে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই নতুন বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে ফরিদপুরে গত প্রায় এক বছর ধরে রড ও সিমেন্টের কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রতি টন ১ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া রড ২০২৪ সালের শেষ দিকে নেমে আসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকায়। মাঝে দাম ৯০ হাজার টাকার কাছাকাছিও ছিল। সোমবার পর্যন্ত বাজারে কেএসআরএম প্রতি টন ৮৯ হাজার টাকা, বিএসআরএম ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, একেএস ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, সিএসআরএম ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং জেডএসআরএম ৮৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে রডের দাম প্রতি টনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কমেছে। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা কমেছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা বেড়েছে। ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া সিমেন্ট এখন কিছু ক্ষেত্রে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আগে রডের দাম ৯২ হাজার টাকা ছিল। বর্তমানে দাম কমে প্রতি টন ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম ছিল ৪৯০ টাকা, বর্তমানে তা ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নাজিম জানিয়েছেন, বর্তমানে কেনাবেচা কম। ব্যবসায় অফসিজন চলছে। ফলে রড ও সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গেছে। শীতের সময় নতুন ইট বাজারে উঠলে চাহিদা বাড়তে পারে।
এদিকে ঠিকাদারদেরও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রনি নামে এক ঠিকাদার জানিয়েছেন, বর্তমানে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত খুবই কম। ফলে ঠিকাদারদের রড ও সিমেন্টের প্রয়োজনও কমে গেছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মানুষের হাতে নগদ অর্থের সংকটের কারণে ইট, বালু, রড ও সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আগামীতে দাম আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে পড়ছে, যা রড ও সিমেন্টের বাজারেও প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দিকে নির্মাণকাজ বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে।
ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে অনেক পণ্যের দাম নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পায়। তবে কোনো ব্যবসায়ী বাজারমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন কি না কিংবা সিন্ডিকেট করছেন কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তর সজাগ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন