প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করার পর, ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারও ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মা। যদিও তিনি এবার ফিফটির দেখা পাননি, তবে ২৯ বলে ৪৮ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসে তিনি এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে করেছেন।
জাপানের নিশিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছে ভারত। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এবং নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় লাভের রেকর্ডও নেই। ফলে শ্রীলঙ্কাকে স্বর্ণপদক জিততে নতুন ইতিহাস গড়তে হবে।
ভারতের বিশাল সংগ্রহ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা এবং রিচা ঘোষ। এই তিনজনই লঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর থেকেই ঝড় তোলেন শেফালি ও মান্ধানা। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১০ ওভারে তারা ৯৯ রান যোগ করেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম উদ্বোধনী জুটি হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তারা।
ফাইনাল শেষে শেফালি-মান্ধানা জুটির মোট রান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইশা ওঝা এবং তীর্থ সতীশের জুটি, যাদের সংগ্রহ ২ হাজার ৯৪৯ রান। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিসা হিলি এবং বেথ মুনির জুটির সংগ্রহ ২ হাজার ৭২০ রান।
দশম ওভারে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আউট হন শেফালি। তার আগে ৩টি চার এবং ৩টি ছক্কায় ২৯ বলে ৪৮ রান করেন। এই ইনিংসটি তাকে এনে দিয়েছে চলতি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড।
২০২৬ সালের মধ্যে শেফালির সংগ্রহ ৮৬৩ রান। ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার এ সময়ে সাতটি ফিফটি এবং একটি সেঞ্চুরি করেছেন। এর ফলে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্টকে পিছনে ফেলেছেন, যিনি চলতি বছরে ৮২৪ রান করেছেন।
এই তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন হংকংয়ের নাতাশা মাইলস, যার ২০২৬ সালে রান ৮০০। চলতি বছরের আগে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইশা ওঝার দখলে, যিনি ২০২৫ সালে ৭৭৯ রান করেছিলেন। একই সংখ্যক রান করেছেন ২০২৬ সালে হংকংয়ের ইয়াসমিন দাসওয়ানিও।
শেফালি ফিরে যাওয়ার পরও ভারতের রানের গতি কমেনি মান্ধানার ব্যাটিংয়ে। ৫টি চার এবং ৭টি ছক্কায় ৪৫ বলে ৭৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার ইনিংসের মধ্য দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন, যা ইতিহাসে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে।
শেষ দিকে ভারতের ইনিংসে ঝড় তোলেন রিচা ঘোষ। ভারতি ফুলমালির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ১৯ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন উইকেটকিপার-ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৬টি চার এবং ৩টি ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন রিচা।
তাদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে ভারত ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে। এখন শ্রীলঙ্কাকে এই লক্ষ্য পেরিয়ে স্বর্ণপদক জিততে হবে, যা নারী টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে অন্যতম কঠিন রানতাড়াগুলোর একটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন