প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব নিয়ে থানায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৭) নামে একজন যুবককে মাদক মামলায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে আগৈলঝাড়া থানার হাজতে রাখা হয়।
থানা হেফাজতের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের দিকে হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজের মাথা গারদের লোহার গ্রীলের সাথে আঘাত করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ওই রাতেই তাকে অজ্ঞান অবস্থায় প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার ভেতরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল-আমিন হোসেন এবং মেহেদী হাসান আহত হন। আহতদের মধ্যে এএসআই আব্দুল হালিমকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং কিছু আহত ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
রিয়াজ ফকিরের পরিবারের অভিযোগ, তাকে অন্যায়ভাবে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছে। তার মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির দাবী করেন, তাদের ছেলেকে মারধর করার কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খাঁন বলেন, রিয়াজ ফকিরকে গত বছরের ১৬ মে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে, তাকে গ্রেফতার করে থানার হাজতে রাখা হয়। ওই রাতে রিয়াজ নিজেই হাজতখানার লোহার গ্রীলে আঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে একদল লোক থানায় হামলা চালায় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত করে।
ওসি আরও জানান, 'পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন