প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ই-জিপির শতভাগ বাস্তবায়ন, ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সংস্থাটি সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, মান ও টেকসইতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালকদের ক্রয় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
সম্প্রতি বাসসকে এক সাক্ষাৎকারে বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলে সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রয়ব্যবস্থার প্রতি নাগরিকদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
কামরুজ্জামান আরও জানান, সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা বিপিপিএর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এছাড়া, মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর ক্রয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্প পরিচালকদের ক্রয়, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অফলাইনে দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিপিপিএ নির্বিচারে অফলাইন টেন্ডারের অনুমতি দিচ্ছে না। কোন পরিস্থিতিতে ক্রয়কারী সংস্থাগুলো অফলাইনে দরপত্র আয়োজনের অনুমতি পাবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
ই-জিপি সফটওয়্যারের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বিপিপিএর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সাম্প্রতিক সংস্কার তুলে ধরে বিপিপিএর সিইও বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠন ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কোনো ক্রয়কারী সংস্থার ডিবারমেন্ট বা দরপত্রদাতাকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য একটি স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
তার মতে, নতুন বোর্ড সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, যথাযথ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ই-জিপি ভার্সন ২.০ চালু ও পুরোনো হার্ডওয়্যার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান ই-জিপি ডেটা সেন্টার আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া নিজস্ব জমিতে বিপিপিএর স্থায়ী প্রধান কার্যালয় নির্মাণ এবং সাসটেইনেবল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (এসপিপি) বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করতে এআই ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আরও আধুনিক, নাগরিকবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পিপিআর ২০২৫-এ বড় সংস্কার
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর), ২০২৫-এ সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে বলে জানান কামরুজ্জামান।
এসবের মধ্যে রয়েছে, জাতীয় পর্যায়ের কার্যসম্পাদনমূলক ক্রয়ে ১০ শতাংশ মূল্যসীমা বাতিল, সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বাধ্যতামূলক ব্যবহার ও সফল ঠিকাদারদের প্রকৃত মালিকানার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা।
এ ছাড়া পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা চালু, সব সরকারি ক্রয়ে ক্রয়কৌশল প্রণয়ন বাধ্যতামূলক ও ভৌত সেবাকে পৃথক ক্রয় শ্রেণি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ও আলোচনার সুযোগ সম্প্রসারণ, তথ্য প্রযুক্তিসংক্রান্ত ক্রয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ ও রিভার্স অকশন নামে নতুন অনলাইন ক্রয়পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিচালন বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ সংরক্ষণের বিধানও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পৃথক প্রকিউরমেন্ট ইউনিট গঠন, অগ্রিম ক্রয়, বাজারের সঙ্গে আগাম সম্পৃক্ততা এবং কৌশলগত ক্রয় পরিকল্পনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
কামরুজ্জামান বলেন, এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় কাঠামো আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আরও কাছাকাছি এসেছে।
তিনি জানান, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে আরও সংশোধনী আনা হতে পারে।
তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা, সততা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন