প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০২৪ সালের এইদিনে রক্তাক্ত রাজপথের প্রতি সহানুভূতি এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের প্রোফাইল লাল রং-এ রঞ্জিত করেন। কোটি কোটি ব্যবহারকারীর এই প্রতিবাদ, শাসকের মসনদকে নাড়িয়ে দেয়। এর আগে, নিহতদের স্মরণে সরকার ৩০ জুলাই রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, শোকের সেই কালো রং এর বিরপীতে মুখ ও চোখে লাল কাপড় বাঁধা ছবি দিয়ে আন্দোলনকারীরা অনলাইনে একটি প্রচার কর্মসূচি পালন করেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, কালোর বিরুদ্ধে লালের এমন আইডিয়া এসেছিলো তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে। জুলাইয়ের এই রক্তিম দিনটি কেমন ছিল? ৩০ জুলাই, ২০২৪। ইতোমধ্যেই নিহত হয়েছেন শত শত মানুষ। আহতের সংখ্যা অজানা ও অজস্র। এর সকল দায় সরকারের এবং তার পেটোয়া বাহিনীর ওপর বর্তায়। এমন এক সময়ে সরকারের তরফ থেকে রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা আসে। এদেশের আপামর জনতা ঘৃণাভরে সে ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। এদিন কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল রাঙিয়ে তোলে বিপ্লবের লাল রঙে। হত্যার বিচার চেয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে বেরিয়ে আসে জনতা। শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবকদের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিকরাও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এদিন জনসম্মুখে হতাহতের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন তারা। রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্ভূত এ কর্মসূচিটি প্রথমদিকে সবাই ইতিবাচকভাবে নেয়নি। কিন্তু কিছুদিন পরেই মজলুমের পক্ষে যারা শামিল হচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, প্রথমে আমরা প্রোফাইল লাল করার কর্মসূচিটি সাংবাদিক ও ফেসবুক গ্রুপে দিয়েছিলাম। তখন দেখা যায়, মানুষ কটূ ভাষায় বক্তব্য রাখছিল। তারা বলছিল, আমরা নাকি আন্দোলনটাকে নিচে নামিয়ে আনছি এবং অফলাইন থেকে অনলাইনে চলে আসছি। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল জনমত যাচাই করা। যারা হাসিনার নিপীড়নের পক্ষে তারা প্রোফাইল কালো করেছে এবং যারা ছাত্রদের পক্ষে তারা লাল করেছে। এতে একটা বাইনারি তৈরি হয়েছিল, সুতরাং সবাই বুঝতে পারেন কারা কারা কার পক্ষে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শোকের কালো রঙের পরিবর্তে লাল রং ধারণ করে অনুষ্ঠানের নির্দেশনা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এসেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান আমাকে ফোন করে বলেন, যেহেতু তারা (তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার) কালো রঙে করছে, তাই লাল রঙ দিয়ে কোনও কর্মসূচি করা যায় কি না। সেটাই আমি ছাত্রদের বলেছি। তারা সকলেই সেটি গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, লাল কাপড় যদি নাও পাওয়া যায়, তবে ফেসবুকে আমরা লাল রঙ পোস্ট করবো। সেটি থেকেই প্রোফাইল লাল করা শুরু হয়। এছাড়াও কারফিউ তুলে নেওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের পদত্যাগের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি, আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত কমিশন করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের করার ১১ দফা দাবি জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী শিক্ষকদের ফোরাম-সাদা দলের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের সহিংস পরিস্থিতি এবং গণগ্রেফতার নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া ৬ সমন্বয়ককে কোন আইনে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এতো সহিংসতায় আদালত লজ্জিত বলেও জানায়। এতকিছুর মাঝে সরকার জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারের তিন মন্ত্রীই জানিয়েছেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি একদিনের মধ্যেই নিষিদ্ধ হবে। এদিকে পরদিন ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা জানায়, ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস এবং রাজপথে পালিত হবে এ কর্মসূচি। ২৪ জুলাই কিছু মানুষ কত রকমের প্রতিবাদ করতে পারে তার দৃষ্টান্ত। একদিকে রাজপথে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাল কাপড় এবং রাঙানোর মাধ্যমে প্রতিবাদ। সেই আপসহীন প্রতিরোধেই শেখ হাসিনা সরকারের মসনদ তছনছ হয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন