প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুড়িগ্রামে গত তিন দিনে তিস্তা নদীতে প্রায় ৫০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
“মনটা খুবই খারাপ, শেষ মেষ বাড়ি ভিটাটাও তিস্তা নদীতে চলে গিয়েছে। কারোর একনাও জায়গা পেলে ঘর তুলি থাকনু হয়। বাপের দেড়একর (৬ দোন) জমি ছিল, সব নদী খেয়ে ফেলেছে। বাড়িভিটা ছিল, তাও আজ গেল।” এ কথাগুলো বলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাঈদুল ইসলাম(৩৫)। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামে নদী ভাঙনের দৃশ্য দেখতে গিয়ে তিনি তার সর্বস্ব হারানোর বেদনায় এসব কথা বলেন।
তিস্তার পানি কমার সাথে সাথে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত তিন দিনে প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখানকার স্কুলসহ প্রায় ২ শতাধিক বাড়ি ঘরও এখন হুমকির মুখে রয়েছে।
নদী ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও, তীব্র নদী ভাঙনের কারণে বেশীরভাগ জিও ব্যাগ বিলীন হয়ে গিয়েছে। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তবে চর বিদ্যানন্দ এবং চর তৈয়বখাঁ গ্রাম দু’টি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রতিরোধের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন।
উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে মসজিদ, বাড়ি-ঘর, হাজার হাজার গাছপালা এবং ফসলি জমি রক্ষা পায়নি।
চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কমার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। মুহুর্তের মধ্যে নদীর প্রবল স্রোতে ও বাতাসের কারণে কিছুক্ষণ পর পর ফসলি জমি ও ঘর বাড়ি নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু জিও ব্যাগ ফেলার পর সেগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁর অনেক পরিবার, যেমন মাঈদুল ইসলাম(৩৫), ইয়াকুব আলী(৪৫), মখলেছ(৩০), ফকরুল(৪০), শফিকুল (৩০), হাজির উদ্দিন(৫০), নাজির উদ্দিন(৪০), হান্নান(৩৫), রবিউল(৪০), সোনা মিয়া(৪৫), আব্দুল লতিফ(৪০), মমিনুল (২৫) সহ প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।
চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামের শরিফুল ইসলাম জানান, গত ২ দিনে তাদের চর বিদ্যানন্দ গ্রামের ২০টি ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। তারা একমাত্র মসজিদটিও হারিয়েছে, যেখানে সবাই মিলে নামাজ পড়তেন। এখন তারা কোথায় যাবেন।
তৈয়বখাঁ গ্রামের মমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়িঘর ভেঙে এখন খোলা আকাশের নিচে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন, “আমাদের কেউ সাহায্য দেখতে আসছে না। যেভাবে নদী ভাঙছে, তাতে আমরা এখানেও থাকবো না।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম জানান, তিনি ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন প্রতিরোধে আরও জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন