প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গত জুনে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত।
রোববার, ৫ জুলাই, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এ প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের উপরে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে মোট ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এই সময় পথচারী নিহত হয়েছেন ৯১ জন, যা মোট প্রাণহানির ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়া, ৫৭ জন চালক ও পরিবহন-সহকারীর মৃত্যু ঘটেছে।
যানবাহনের ভিত্তিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের পরে থ্রি-হুইলারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এসব যানবাহনে ১১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলিতে ৩৭ জন নিহত, বাসে ২৭ জন এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
জুন মাসে জাতীয় মহাসড়কে ১৫১টি দুর্ঘটনা, আঞ্চলিক সড়কে ১৯৪টি, গ্রামীণ সড়কে ৬৪টি এবং শহরের সড়কে ৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে দেখা গেছে, আঞ্চলিক সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এছাড়া, ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি পথচারীকে চাপা দেয়ার ঘটনা এবং ৫৩টি দুর্ঘটনা সামনে থাকা যানবাহনের পেছনে ধাক্কা লাগার কারণে ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীতে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬ জন।
এছাড়া, সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে দেশের নৌপথেও ৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৭ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময় ২১টি রেল দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা রয়েছে। এর মধ্যে থাকে অনুপযোগী সড়ক, ত্রুটিযুক্ত যানবাহন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের দক্ষতার অভাব ও শারীরিক অসুস্থতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা এবং ন্যায্য পারিশ্রমিকের অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করা, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার করা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মহাসড়কগুলোতে নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন