প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নওগাঁয় সংঘর্ষের পর বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং শ্রমিকদের মধ্যে চলাচল বন্ধ রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এই পরিস্থিতি দ্বিতীয় দিনের মতো চলমান রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলা ও আন্তঃজেলা রুটে বাস ও অটোরিকশা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসটার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। বাসগুলো সারি করে টার্মিনালে রাখা হয়েছে। একইভাবে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশাও ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। যাত্রীদের ব্যাটারিচালিত রিকশায় (ইজিবাইক) দূরের গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এর ফলে শহরের পার-নওগাঁ এলাকায় ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকেও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফেনীতে একটি বেসরকারি অফিসে কর্মরত আরমান হোসেন ছুটি নিয়ে বাড়ি আসছিলেন জরুরি কাজ সারতে। কিন্তু তিনি গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। আজ সকালে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, "গতকাল বাস ও অটোরিকশা বন্ধ থাকায় আমি গন্তব্যস্থলে যেতে পারিনি। আজকেও একই অবস্থা। বাস ও অটোরিকশা কিছুই চলছে না।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পরিবহন শ্রমিকদের কাছে মানুষ জিম্মি। এক শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আরেক সংগঠনের দ্বন্দ্ব এদের লেগেই থাকে। এসব দ্বন্দ্বের জেরে তারা পাবলিক পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে। প্রতিবারই পরিবহন শ্রমিকদের দাবি আদায়ে বলি হই আমরা সাধারণ মানুষ। কোনো সরকার, প্রশাসনই এদের সঙ্গে পারেনি। ভবিষ্যতেও মনে হয় না এদের হাত থেকে মানুষ রক্ষা পাবে।"
শহরের বালু ডাঙা বাসস্ট্যান্ডে রাজশাহীগামী যাত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, "আমার দুই মেয়ে রাজশাহীতে পড়াশোনা করে। এক মেয়ে খুব অসুস্থ। মেয়েকে দেখার জন্য সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস চলছে না। অটোরিকশাও বন্ধ। এতে চরম সমস্যায় পড়েছি। এখন চিন্তা করছি, সান্তাহার রেল স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে করে রাজশাহী যাব। এ ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।"
মান্দার যাত্রী খসরু বাসার বলেন, "কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ। এখন কীভাবে যাব, বুঝতেছি না। অটোরিকশা, বাস সবই বন্ধ আছে। আমরা সাধারণ যাত্রীরা সব সময় পরিবহনশ্রমিকদের কাছে জিম্মি। তাদের দাবির কোনো শেষ নেই।"
বাস ও অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাচালকের সঙ্গে মহন্ত পরিবহন নামে একটি বাসের চালক ও তার সহকারীর বাকবিতন্ডা হয়। এর পরিণতি হিসেবে শনিবার দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশাচালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে মহন্ত পরিবহনের বাস চালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে উদ্ধার করে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চালক রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই চালক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাসচালক ও তার সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে রোববার সকাল ৭টা থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা কয়েকটি সড়কে (নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া, ঢাকা রুটে) বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাস শ্রমিকেরা সড়কে অটোরিকশাও চলাচল করতে দিচ্ছে না। বাস শ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে যেসব অটোরিকশাচালক সড়কে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বাস শ্রমিকরা। গতকাল দিনভর প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে বাস শ্রমিকেরা।
জেলা অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল জানান, "গত শনিবার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি সিএনজিতে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বাস শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে গতকাল দুপুরে নজিপুরে অটোরিকশা ও বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এটা নিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক হয়নি। বাস শ্রমিকেরা রাস্তায় অটোরিকশা চলাচল করতে দিচ্ছে না। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে বাস শ্রমিকেরা।"
জানতে চাইলে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, "বাসের একজন চালক ও তার সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে বাস ধর্মঘট চলছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য গতকাল পুলিশ সুপারের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠন ও অটোরিকশা চালকদের সংগঠনের নেতাদের বৈঠক হয়েছে। আমাদের দাবি, বাস চালক ও তার সহকারীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।"
আরেকটি উল্লেখযোগ্য দাবি হচ্ছে, মহাসড়কে অটোরিকশাসহ সব ধরনের তিন চাকার যান বন্ধ রাখতে হবে। সরকারি আইন অনুযায়ী মহাসড়কে কোনো প্রকার তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ। প্রশাসন, বাস মালিক ও মোটর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অটোরিকশার চালকেরা মহাসড়কে জোর করে গাড়িয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন