প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা আজ বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে কাজ করছে।
আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (টিটিডিসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আফরোজা বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ। আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি।
মন্ত্রী আফরোজা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা উন্মোচনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, 'প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন- দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের উন্নয়ন।'
সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতি সরকারের উচ্চাকাক্সক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে আফরোজা জানালেন, প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে আগামী কয়েক বছরে পর্যটনের জিডিপিতে অবদান বর্তমান প্রায় তিন শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করা।
তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যটন মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনা জুড়ে একটি বৃহৎ পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় শতাধিক পেশাদার ট্যুর গাইড প্রশিক্ষিত হয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পর্যটন খাত জাতীয় জিডিপিতে প্রায় তিন শতাংশ অবদান রাখছে, যা প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এ খাতটি হোটেল, এয়ারলাইনস, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর অপারেশন ও স্থানীয় গাইডিং সেবায় দুই মিলিয়নেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় স্বীকৃত পর্যটন গন্তব্য রয়েছে, তবে বিপুল সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
আফরোজা মন্তব্য করেন, 'আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি।'
বেসরকারি খাতের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার নীতি প্রণয়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, গবেষক, বিমান খাতের অংশীজন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় ছাড়া সরকারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
নতুন উদ্বোধনকৃত টিটিডিসিকে তিনি সরকারি-বেসরকারি খাতকে একত্রে আনার এবং দেশের পর্যটন উচ্চাকাক্সক্ষাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আফরোজা আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি উদ্বোধন করে পর্যটন, হসপিটালিটি ও বিমান খাতের অংশীজনদের আহ্বান জানান, যাতে তারা নিজেদের শুধু অতিথি নয় বরং 'বাংলাদেশের পরবর্তী বড় প্রবৃদ্ধির গল্পের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার' হিসেবে বিবেচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, এই দেশ আমাদের জন্য, আর আমরা এই দেশের জন্য। বাংলাদেশ সবার আগে-এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে টিটিডিসি উদ্বোধনী কমিটির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য নাসের রহমান সভাপতিত্ব করেন। টিটিডিসি সভাপতি কাজী ওয়াহিদুল আলম সংগঠনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেন এবং অভিজ্ঞ হোটেলিয়ার ও টিটিডিসি নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহিদ হামিদ এফআইএইচ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া হক বাংলাদেশের পর্যটন, হসপিটালিটি ও বিমান খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর পরে সরকারি, বেসরকারি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সিপিডি গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সম্পাদক ইনাম আহমেদ, গ্যালাক্সি গ্রুপ সভাপতি আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ এবং আইএইচজি সাউথ ওয়েস্ট এশিয়া এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার আশ্বিনী নায়ার অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন