প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন, যিনি ডেভিড ইমন নামেও পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তার অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের উৎস, চাঁদাবাজির অর্থের প্রবাহ, তদবিরকারীদের টাকার ভাগ দেওয়া, এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এছাড়াও, ভারতে ডেভিড ইমনের জন্য ‘আজহার খান’ নামে একটি আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারের সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সাজ্জাদ আলীর পরামর্শেই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল। উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডে ‘আজহার খান’ নামে একটি পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ভারতের নাগরিক পরিচয়পত্রের আদলে একটি ছবি, জন্মতারিখ এবং পরিচয় নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কার্ডটি আসল, নকল বা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে কিনা। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়। ডেভিড ইমন এবং সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন। ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবং রায়হান চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন। একজনের এলাকায় অন্যজন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে যশোরে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মোবারক হোসেন ইমন বা ডেভিড ইমন (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো. শামীম (২৮), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।
তবে ইউপিডিএফের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং ভারতে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলীর কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন