প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদী বরাবর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া দুটি অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দরকে কেন্দ্র করে। তারা মনে করছেন, বন্দর দুটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তাছাড়া, এর ফলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি যুক্ত হবে।
যমুনা নদী গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীরে সহস্রাধিক চর জেগে উঠেছে। যদিও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগের অভাব এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার অপ্রতুলতা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লাভে বাধা দিচ্ছে।
বর্ষা কিংবা খরার সময়ে নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়ে যায়। যদি নৌ-বন্দর দুটি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে সারিয়াকান্দিঘাট থেকে জামালপুর এবং ময়মনসিংহ রুটের জামথল, মথুরাপাড়া থেকে দেঘিপাড়া পর্যন্ত নৌ-যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। অপরদিকে, ধুনটের শহরাবাড়ী বন্দর থেকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার টেকুরিয়াহাট ও বেশাঘীর চরে যাতায়াত সহজ হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে কৃষি উৎপাদন ও বিপণনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে, সেইসঙ্গে পর্যটন শিল্পের উন্নতি ঘটতে পারে।
থাকছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, তারা জানাচ্ছেন, নদীবন্দর চালু হলে বড় নৌযান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মাঝনদীতে ঝড়-ঝঞ্ঝার সময়ে ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে মানুষ কম খরচে স্বাভাবিকভাবে পারাপার ও পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম হবেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, নৌ-বন্দর চালু হলে চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত এড়িয়ে সরাসরি দেশের বড় পাইকারি বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বগুড়ার সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল দাবি করেছেন, সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ আসবে। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য শুধু সড়কপথে নয়, নদীবন্দর ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা সহ দেশের নানা স্থানে সহজে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
শুধু স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন নয়, এই অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দরগুলোর মাধ্যমে বগুড়ার সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার নৌপথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এতে স্থলপথের তুলনায় কম খরচে এবং সুবিধার সঙ্গে পণ্যের পরিবহন ঘটবে।
বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আগামীতে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান। সাধারণ মানুষের কাছে নদীবন্দরের সুবিধা পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। তিনি জানান, দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। নৌ-বন্দর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন