প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। এই মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালক এবং উত্তরবঙ্গের গাড়িচালকদের মাত্রাতিরিক্ত ওভারটেকিং প্রবণতার পাশাপাশি সার্ভিসলেন আটকে রাখার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে এই মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩০টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। এই সময়ের মধ্যে ছোট-বড় ১০৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩ জন। একই সময়ে টাঙ্গাইলের রেল লাইনের অংশে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সকল দুর্ঘটনায় মোট ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়ে জীবন যাপন করছেন অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এই মাসে সর্বোচ্চ ৩৯ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন। এর মধ্যে গত ২৫ মে দুপুরে কালিহাতী উপজেলায় একটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলে ১৫ জনের মৃত্যু ঘটে, যেখানে আহত হন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারসো ইউনিয়নে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪ জন এবং জুন মাসে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৯ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ জন করে, এপ্রিলে ১৮ জন এবং জুনে ৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মহাসড়কের পাশাপাশি অরক্ষিত রেলপথেও মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলেছে। গত ছয় মাসে টাঙ্গাইলের ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ২ জন এবং মে মাসে ৫ জন মারা যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো জুন মাসে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার।
এদিকে, দুর্ঘটনা পরবর্তী সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ট্রাস্টি বোর্ড ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। গত ছয় মাসের মধ্যে মোট ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে চেকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে, বলে বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক মাওলানা মাসুদুর রহমান, আল আমিন, আরাফাত রহমান, রুমনসহ অনেকেই বলেন, যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা হিসেবেও পরিচিত। এই মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন রেখে আটকে রাখা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল চালকরা মহাসড়কে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেছেন বালুর স্তূপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য।
টাঙ্গাইলের বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক জানিয়েছেন, এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার বেশি। তিনি দুর্ঘটনার জন্য উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেন। অভিযোগ করেন যে, অদক্ষ চালক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম পরামর্শ দেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার প্রথম শর্ত হলো চালকদের সচেতন থাকা। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতে অতিরিক্ত গতি থাকলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চললে তা অনেকাংশে কমে আসবে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।
তিনি আরো জানান, সার্ভিস লেন থেকে মহাসড়কে উঠতে গিয়ে অনেক মোটরসাইকেল চালক গাড়ি চালাচ্ছেন। এরপর তাদেরকে বিরত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো থেকে সরে আসতে হবে। দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হলো ওভারটেক করা। এ বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান করেছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন