প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা আদ্রা উওর ইউনিয়নে অবস্থিত মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ভবনে দীর্ঘদিন যাবৎ নূরানী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর। তিনি মেরকট বাজার কিন্ডার গার্টেন নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটির একই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে নূরানী হাফেজিয়া নামক একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, যা মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের তত্ত্বাবধানে চলছে। এই নূরানী প্রতিষ্ঠানে প্রথম জামাত থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় 75 জন। একই সঙ্গে, শ্রেণিভেদে নূরানী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে 200 থেকে 350 টাকা পর্যন্ত বেতন আদায় করা হচ্ছে। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণী কার্যক্রম চলাকালীন নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ডে-কেয়ার পড়ানোর নামে আলাদা 200 টাকা প্রতি মাসে নেয়া হয়।
১৫ আগস্ট শনিবার সকালে সরেজমিনে মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষে সুপারের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা পূর্ব পাশে চারটি শ্রেণিকক্ষে নূরানি বিভাগের পাঠদান চলছে। সেখানে প্রায় 60 জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন ও শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন মাওলানা মোশাররফ হোসেন। নূরানী তৃতীয় জামাত একটি শ্রেণীকক্ষে দেখা যায়, 4টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে 3টি বেসরকারি প্রকাশনার বই দিয়ে পাঠদান চলছিল।
ভূক্তভোগীরা জানায়, তারা প্রথম শ্রেণিতে মাসিক বেতন বাবদ 200 টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে 300 টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণিতে 350 টাকা বেতন দিয়েছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর। এছাড়া, ডে-কেয়ার বাবদও অতিরিক্ত 200 টাকা ফি নেয়া হয়। মাদ্রাসার প্রথম জামাতের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের মা নাছিমা আক্তার বলেন, "আমার ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আমরা প্রতি মাসে 200 টাকা করে বেতন দিচ্ছি এবং ডে-কেয়ার বাবদ আরও 200 টাকা দিচ্ছি।" মাদ্রাসা তৃতীয় জামাতের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, "আমরা প্রথম জামাত থেকে মাসিক বেতন দিয়ে পড়ালেখা করছি। আমাদের মাদ্রাসার নাম মেরকট বাজার কিন্ডারগার্টেন নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা। আমাদের হুজুররা নূরানি সিলেবাস অনুযায়ী পড়াচ্ছেন।"
নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোশাররফ বলেন, "আমাদের নূরানী শাখায় 75 জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নূরানী কিছু বই থেকে আমরা পাঠদান করি।" তিনি আরও জানান, "দাখিল মাদ্রাসার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এটি একটি আলাদা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর সাহেব আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান।" দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা ফয়জুল্লাহ বলেন, "এটি মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার একটি শাখা। আমরা নূরানি শাখা হিসবে এটি ব্যবহার করছি।"
মাদ্রাসা দাতা সদস্য আবুল কালাম বলেন, "মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও এখানে নূরানী কার্যক্রম চলছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভবনে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।" এ বিষয়ে মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি ব্যস্ত আছি, মাগরিবের পর ফোন করব।" তবে, পরে মাগরিবের পর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার ও অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক এডহক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, "মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা নূরানি শাখা ছিল না, আমি জানতাম না, হয়তো নতুন করে তারা পরিচালনা করছে।" নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, "আমি নূরানী শাখার বিষয়ে অবগত নই। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভবনে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোন নিয়ম নেই, তবে আমি মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।" নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অত্র প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন