প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চার ছেলের পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন ৭০ বছর বয়সী আরেসের নেছা। খোলা আকাশের নিচে একটি ভাঙা চৌকিতে তিনি বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে টানা বৃষ্টির কারণে চৌকিটি ভিজে যাওয়ায় তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বৃদ্ধার সেই ছবি ও ভিডিও যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে তাকে ছেলের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি উপজেলা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছিল। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী হযরত আলীর মৃত্যুর পর আরেসের নেছা একা চার ছেলে ও এক মেয়েকে লালন-পালন করেছেন। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি সন্তানদের বড় করেছেন এবং মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। তার চার ছেলে হলেন আব্দুর রহিম, মোমেন মিয়া, হুমায়ুন কবির ও ইয়াসিন মিয়া। এই চার ভাইয়ের মধ্যে ইয়াসিন মারা গেছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, অন্য ছেলেরা পাকা বাড়িতে বসবাস করলেও আরেসের নেছা প্রায় দুই মাস ধরে তৃতীয় ছেলে হুমায়ুন কবিরের বাড়ির পাশের একটি পুরাতন চৌকিতে খোলা আকাশের নিচে বাস করছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টির ফলে সেই চৌকিটি ভিজে যাওয়ায় তার জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।
বৃদ্ধার এমন করুন অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এলাকাবাসীর মতামত হল, মা-বাবার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক, সামাজিক এবং আইনগত দায়িত্ব। তারা সমাজে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন ঘটতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন এবং সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলমের মন্তব্য ছিল, "দুই ছেলের পাকা বাড়ি থাকার পরও যদি মায়ের মাথা গোঁজার ঠাঁই না হয়, তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।" প্রবীণ বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, "মা-বাবার সেবা করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি সন্তানের কর্তব্য। এমন ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জাজনক।"
তৃতীয় ছেলে হুমায়ুন কবির নিজেকে দায়ী করে বলেছেন, "আমি সব সময় মায়ের দেখভাল করেছি। অন্য দুই ভাই খোঁজখবর নেন না। বাড়িতে অতিথি থাকার কারণে গত দুই মাস মা বাইরে ছিলেন।" তিনি বলেন, "এটিকে নিজের ভুল স্বীকার করে আমি বলি, এখন থেকে মায়ের পুরো দায়িত্ব নেব।"
বিষয়টি যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের নজরে আসে, তিনি রবিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আরেসের নেছাকে উদ্ধার করে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, "সোমবার ছেলেদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা মায়ের যথাযথ দেখভাল করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন