প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় একটি সাবেক বাসচালকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অন্তত ২৮ কোটি রুপি নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মিনার মন্ডল নামে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনার মন্ডল পূর্বে বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন, তবে বর্তমানে তিনি পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত। টুলু মন্ডলকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেতা অনুব্রত মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জানা যায়।
পুলিশ বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে মিনার মন্ডলের বাড়িতে অভিযান শুরু করে। প্রথমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি রুপি নগদ অর্থ উদ্ধার হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে এর পরিমাণ ২৮ কোটি রুপির বেশি হয়ে যায়। এত বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে গিয়েও পরিচালিত পাঁচটি টাকা গণনার যন্ত্র বিকল হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পুলিশের হিসেবে, উদ্ধার হওয়া ১৫ কেজি সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি রুপি। মিনার মন্ডল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন যে, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ এবং সোনা টুলু মন্ডল এবং তাঁর কথিত অবৈধ সিন্ডিকেটের মালিকানাধীন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিনার মন্ডলের সঙ্গে টুলু মন্ডলের মালিকানাধীন পাথরের খনি এবং ক্রাশিং ইউনিটের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং সম্পদ তাঁর কাছে এসেছে এবং এর উৎস কী সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানটিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। তবে, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তদন্ত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিকমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বার্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার প্রকৃত মালিকানা, উৎস এবং সম্ভাব্য অবৈধ লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন