প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার দয়াগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে খুবই ক্ষতিকর তথ্য। পুলিশ জানায়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সালমা বেগম জড়িত ছিলেন।
২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হুমায়ুন কবীর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিবহন বিভাগে জলকামান চালাতেন। ২০১০ সালে হুমায়ুন কবীর এবং সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছিল, তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন, যেখানে ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বছরের মার্চে আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, স্ত্রী সালমা বেগমের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানাজানি হওয়া এবং হুমায়ুনের কাছ থেকে একজন আত্মীয়ের ধার নেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণে তাকে খুন করা হয়।
মাস দুই ধরে খুনের পরিকল্পনা চলছিল, একাধিকবার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে হুমায়ুনকে অচেতন করা হয়। গভীর রাতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি আমলে নেয়। এখন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হুমায়ুনের স্ত্রী সালমা বেগম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- রাজীব হোসেন, মরিয়ম বেগম (মলি), পলি বেগম, কায়েস হাওলাদার, ফজলে রাব্বি শুভ, রাফি খান, আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির। আসামিদের মধ্যে আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে।
সালমা, পলি ও রাফি কারাগারে আছেন। রাজীব, মলি, কায়েস ও শুভ জামিনে মুক্ত।
তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন মন্তব্য করেছেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেনের কারণে হুমায়ুনকে খুন করা হয়েছে। ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে ও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তাদের নিকটাত্মীয় হওয়ায় রাজীব হোসেন প্রায়ই তাদের বাসায় আসতেন। গত বছর রাজীবের সঙ্গে সালমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত বছরের ২৫ এপ্রিল দুই পরিবার উপস্থিত অবস্থায় সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সালমা ওই সম্পর্ক বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সালিশের তিন দিন পর, ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল সকালে দয়াগঞ্জে নিজেদের ভাড়া বাসার ফটকের সামনে থেকে হুমায়ুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন হুমায়ুনের ছোট ভাই খোকন হাওলাদার যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দাখিল করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর শুভ ও রাফিকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, বাকি টাকা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশনের টাকার মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
তবে আসামিদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। পুলিশের সন্দেহ হলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিশ্চিতভাবে হুমায়ুনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
আওলাদ হুসাইন আরো বলেন, কয়েক দফায় পরিকল্পনা বদলে হুমায়ুনকে খুন করা হয়। খুনের আগে অভিযুক্তরা ওই বাসাতেই ছিলেন।
মামলার বাদী খোকন হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও নম্বরটি খোলা পাওয়া যায়নি।
আসামি সালমা বেগমের আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে এবং আসামি সালমা কারাগারে আছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন