প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং জোয়ারের পানির কারণে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সামান্য বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু অধিকাংশ স্থানে এখনও পানি নামেনি। ফলে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাদুর্গতরা। তাদের বক্তব্য হলো, পানিবন্দি হয়ে থাকলেও খাদ্য সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি।
যেদিকে দৃষ্টিপাত করা হয়, সেখানে শুধুই পানি। ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের ফলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে দৃশ্যমান অবস্থা এমন। বাড়ি-ঘরের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ এবং ইউনিয়ন পরিষদ ডুবে গেছে। এই দৃশ্য কেবল লক্ষ্যারচরের নয়। উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা এবং খুটাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়া জেলার ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ lakh বাসিন্দার দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
যদিও গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হয়েছে, তবুও অনেক এলাকায় মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
লাক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গতরা বলছেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও খাদ্য সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি। তারা অত্যন্ত বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে ভুগছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা আবহাওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে, আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবুও এর তীব্রতা খানিকটা কমতে পারে।
এতদসাথে, সাগরের প্রবল হাওয়ার কারণে দেশের চারটি বন্দরের জন্য দেওয়া তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত আজ তুলে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, গত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেই বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে, এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানেও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে, চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে রংপুর অঞ্চল এবং উজানের বৃষ্টি।
অথচ গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির বিস্তার কিছুটা কম থাকলেও দেশের বিভিন্ন নদীর পানি এখনও বাড়তি আছে। বিশেষত, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে ভারি বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন