প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ দেশের মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কাজটি সম্পন্ন হবে।
তিনি হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, মহাসড়কে যানবাহন থেকে অবৈধ টোল আদায় করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে পারব।’
গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন যে, এই সময়ের পর থেকে যানবাহন থেকে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের টাকা আদায়ের কোনো অভিযোগ থাকবে না।
তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করতে ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি চালু করা।
অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরো মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
ফারুক আহমেদ আরও বলেছেন, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি কাভারেজের আওতায় রয়েছে। এই রুটের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে হাইওয়ে পুলিশ কেন্দ্রীয়ভাবে এই দুই প্রধান মহাসড়কে নজরদারি কার্যক্রমে সক্ষম হচ্ছে।
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের এআই ক্যামেরাগুলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক পরিচালনার জন্য হাইওয়ে পুলিশ শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাহিনী ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নজরদারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার শুরু করেছে।
হাইওয়ে পুলিশ প্রধান জানান, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে। এছাড়াও, এটি যে কোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিতে ও যানজট নিরসনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এআই নজরদারি ব্যবস্থাটি এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য মহাসড়কগুলোতেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ করা এবং নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা—এই দুটোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা শক্তিশালী করার ওপর পুলিশ বাহিনী বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে। জনগণের আস্থা অর্জন ও মহাসড়কের নিরাপত্তা বজায় রাখতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদারের প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে দেশব্যাপী ৭৩টি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেবার মান আরও কার্যকর করতে এই বাহিনীর পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হাইওয়ে পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এই ইউনিট প্রায় ১১,৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন