প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গত জুনের শেষের দিকে ইউরোপ জুড়ে টানা আট দিনের তাপপ্রবাহের ফলে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। ইউরোপ ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোমোমো রোববার (১২ জুলাই) তাদের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউরোমোমো হল ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপ সংস্থা।
প্রতিবেদনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত আট দিনের ধারাবাহিক যে তাপপ্রবাহ চলেছিল, তার জন্যই ইইউভুক্ত ২৭টি দেশে এই ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার জনের বয়স ৬৫ বছর বা তার কিছু ভেতরে রয়েছে।
মৃতদের মধ্যে অনেকেই ‘হিট-স্ট্রোক’ বা গরমজনিত কারণে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড ইউরোমোমোর একজন কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে রয়টার্সকে বলেন, "তাদের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড গরমের কারণে। এর পিছনে আর কোনো ব্যাখ্যা নেই। মৃতের এই সংখ্যা সত্যিই অনেক বেশি, এবং বছরের এই সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক মৃত্যু মোটেও স্বাভাবিক নয়।"
ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশে কতজনের মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে ইউরোমোমোর প্রতিবেদনে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি, তবে এই মৃতদের একটি বড় অংশ ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, গরম এবং তাপপ্রবাহের কারণে ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশের সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটছে। গত আট সপ্তাহ ধরে এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের (ইসিডিপিসি) রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপে এক সপ্তাহে সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ডটি করোনা মহামারীর সময় সংঘটিত হয়েছিল। ২০২০ সালের মে-জুন মাসে মহামারীর চূড়ান্ত সময়ে এক সপ্তাহে ১ হাজার ৬৫০ জনের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ইউরোপে।
ইউরোপের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জুনের এই তাপপ্রবাহের জন্য মানবসৃষ্ট জলবায়ুর পরিবর্তন দায়ী, এবং সামনের বছরের মধ্যে এমন তাপপ্রবাহগুলি আবার ফিরতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন