প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গত তিন দশকের মধ্যে তাইওয়ানে সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি’র আঘাতের আশঙ্কায় সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। শুক্র ও শনিবার, টাইফুন বাভি, তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল, পাশাপাশি জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমের দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে। এর পরে এটি চীনে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি সপ্তাহে, প্রাণঘাতী ঝড় চীন ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
কিলুং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবর প্রকাশ করেছে। বন্দর নগরী কিলুং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানকার বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী জমা করেছেন, জানালায় টেপ লাগিয়েছেন এবং সড়কের সমতলে বাসস্থানের প্রবেশমুখে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন। কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, তারা আগাম প্রস্তুতির ব্যবস্থা নিয়েছেন।
তাইপের কাছে উপকূলীয় বালি জেলার একটি নুডলসের দোকানে কাজ করা স্যামুয়েল ফু মন্তব্য করেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন।’ ২০ বছর বয়সী ফু এএফপিকে বলেন, ‘এই প্রথম, দোকান খোলার পর এত বড় টাইফুনের মুখোমুখি হচ্ছি।’
সোমবার, সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর, বাভি প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় শক্তি কিছুটা কমে আসে এবং এটি টাইফুনে পরিণত হয়। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানায়, শুক্রবার বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবারের তুলনায় বাতাসের গতি কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে তারা।
সিডব্লিউএর আবহওয়াবিদ ওয়াং পিং-শিয়াং বলেন, ‘পরিবেশগত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় টাইফুনটি আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং ও ইলান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে, এবং মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পার্বত্য এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।’
বাভির প্রবল বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিলোমিটার। ফলে এটি ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে যাচ্ছে। শুক্র ও শনিবার, উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের বহু এলাকায়, রাজধানী তাইপে সহ, স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে।
কিলুংয়ে, বাসিন্দারা তাজা ফল ও সবজি কিনতে বাজারে ভিড় জমান। ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রেতারা তাদের স্টলগুলোকে সুরক্ষিত করেন। একটি মন্দির কর্তৃপক্ষ ঝড়ের আগে বাইরে থাকা একটি মূর্তি ঢেকে বেঁধে রাখে।
বাভি’র প্রভাবে, কোথাও কোথাও এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে, দুইটি প্রাকৃতিক বাঁধকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। সেখানে বেশি ঝুঁকি থাকায় সহস্রাধিক মানুষকে বাড়িঘর থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বাভির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকার মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে বলেছেন, ‘টাইফুনটি কিছুটা দুর্বল হয়ে এখন মাঝারি মাত্রার টাইফুনে পরিণত হয়েছে, কিন্তু এর বিস্তৃত বায়ুপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি আনতে পারে।’
তাইওয়ান অতিক্রম করার পর, সপ্তাহের শেষে পূর্ব চীনে বাভির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি সপ্তাহে বৈরী আবহাওয়া ইতোমধ্যে চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। অনেক নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে এবং একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে পড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন