প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন এবং হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন দুজন মারা গেছেন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় এই আগুন লাগে।
আইসিইউতে থাকা বাকি তিনজনের অবস্থানও ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন তথ্য প্রদান করেছেন।
নিহত দুজনের মধ্যে একজন ৩২ বছরের দিদারুল আলম, যিনি বোয়ালখালী উপজেলায় পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের ছেলে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আরেক নিহত ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ নুরুল আলম, যিনি পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামের বাসিন্দা। তার শরীরে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
১০ জন দগ্ধের মধ্যে পাঁচজন কারখানাটির শ্রমিক এবং বাকি পাঁচজন ঠিকদারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক হিসেবে সেখানে মেরামত কাজ করছিলেন।
ঘটনার দিন বিকালে পাঁচজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যার মধ্যে দুজন মারা যান।
দগ্ধ বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে গেছেন।
কারখানাটিতে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, ওই কারখানার বড় জেনারেটরসহ কয়েকটি যন্ত্র নষ্ট হওয়ায় সেগুলো ঠিক করতে পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। তখন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে দুটি এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন লাগার বিষয়ে তাদের কাছে ‘গোপন করা হয়েছে’। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কিছুই পায়নি। আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং দগ্ধদের সেখানে থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সরেজমিন পরিদর্শনের পর এবং কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল।
সেগুলো মেরামত করার জন্য পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের একপর্যায়ে সেখানে আগুন লাগে এবং সেখানে থাকা দুটি এসি বিস্ফোরিত হয়। এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে, যারা সেখানে ছিলেন তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগুন লাগার বিষয়টি আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। এটি হাইড করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গিয়েও কিছু পায়নি। পরে আমরা শুনেছি, দগ্ধ হয়ে ১০ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন