প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এজন্য ৩৭০ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির দপ্তরসমূহ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য এবং সারাদেশের যত হাট-বাজার বা গ্রোথ সেন্টার রয়েছে, তাদের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ বরাদ্দ থেকে টাকা ছাড় করা হয়েছে এবং আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মোট ৩৭০ কোটি টাকা এ কাজে ছাড় করা হয়েছে।
মীর শাহে আলম জানান, প্রাথমিকভাবে উৎপাদনের পরিমাণ হবে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। তবে প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দের অর্থের সঙ্গে নিজস্ব রাজস্ব যোগ করে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যে ১৫০ মেগাওয়াট ব্যবহার করবে, বাকি ১৫০ মেগাওয়াট সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্যাকেজ অনুযায়ী নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে পাওয়া অর্থে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে সরকারের দেওয়া অর্থ উঠে আসবে। এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত রাজস্ব আয় হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে স্বাচ্ছন্দ্য আসবে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় সুবিধা হবে।
তিনি বলেন, বিক্রি করলে আমরা হিসাব করে দেখেছি, আমরা যে টাকা ছাড় করছি এবং তারা যে টাকা ব্যয় করবে, ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে তারা যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে, তাহলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ আমাদের উঠে আসবে। পরবর্তী সময়গুলোতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের একটি ইনকাম থাকবে, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না যাওয়ার একটি গ্যারান্টি থাকবে এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।
মীর শাহে আলম বলেন, সোলার প্যানেল স্থাপনকারী বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে আমরা একটি স্ট্যান্ডার্ড হিসাব নিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও তার একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। ৫.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনে খরচ হবে প্লাস-মাইনাস ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
তিনি জানান, এ হিসাব অনুযায়ী দেশের যেসব ইউনিয়ন পরিষদের ভবন রয়েছে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাট-বাজারের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ থেকেও ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আলাদা চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, হাট-বাজারের উন্নয়নের অর্থ ব্যবহার করে হাটের রূপটপ বা ছাদে প্যানেল স্থাপন করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল, গ্রামীণ শক্তিসহ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তালিকাভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালা অনুযায়ী ২০ বছরের একটি চুক্তি সই করবে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে। সেই চুক্তি অনুযায়ী ওইসব প্রতিষ্ঠান ২০ বছর ফ্রি সার্ভিসিং বা ওয়ারেন্টি দেবে আমাদের।
তিনি জানান, চুক্তির ফলে ২০ বছর সোলার প্যানেলের সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিশ্চয়তা থাকবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মনিটরিং করবে, মেইনটেন্যান্স করবে এবং কোনো সমস্যা হলে তা ঠিক করবে।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের দেওয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্যাকেজ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা বিক্রির সুবিধা নিতে চায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বায়ত্তশাসিত, তারা সরকারের টাকার পাশাপাশি তাদের সবারই নিজস্ব ইনকামের একটি ব্যবস্থা আছে। খেয়াঘাট বলেন, হাট-বাজার বলেন, তারপর পৌরসভার মধ্যে পরিবহন যাতায়াত করলে সেখান থেকে তারা একটি ট্যাক্স নেয়। এ রকম বিভিন্ন খাত থেকে, ট্রেড লাইসেন্স থেকে, হোল্ডিং থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ট্যাক্স আদায় করে। এভাবে রাজস্ব আহরণের ব্যাপারে তাদের নিজস্ব একটি নীতিমালা আছে বা সক্ষমতা আছে।
তিনি বলেন, এই রাজস্ব আহরণের সঙ্গে আমরা নতুন করে একটি প্লাস করে তাদের দিতে চাই, উৎসাহিত করতে চাই যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তারা এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেরা ব্যবহার করবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎটা তারা সরকারের কাছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিক্রি করে তাদেরও একটি নিজস্ব রাজস্ব আয় হবে।
প্রতিমন্ত্রী আবারও বলেন, ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা গেলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ উঠে আসবে। পরবর্তী ২০ বছর পর্যন্ত সেবা ও ওয়ারেন্টির সুবিধার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, প্রায় ৩ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ৫.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ভ্যাট ও আয়কর কাটার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নিজস্ব রাজস্বের অর্থ থেকেও সোলার প্যানেল স্থাপনে ব্যয় করতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ হাট-বাজার থেকে ৫ শতাংশ এবং ভূমি রেজিস্ট্রেশন থেকে ১ শতাংশ রাজস্ব পায়। সেখান থেকে বলছি যে আপনারা আমাদের টাকার সঙ্গে আপনাদের রাজস্ব যোগ করে ডাবল বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন। নিজেরা ব্যবহার করবেন এবং জাতীয় গ্রিডে দেবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশনগুলোকে ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদকে ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভাকে ৬৪ কোটি টাকা এবং জেলা পরিষদকে ১২ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন