প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ রেলওয়ে আসন্ন দুর্গাপূজায় ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ মোকাবেলার জন্য তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচটি ট্রেনের নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধ বা অফ ডে বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, রেলপথ ও সেতুর নিরাপত্তা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আগামী ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ঢাকা স্পেশাল-৩ চলবে। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে টুরিস্ট স্পেশাল-১ ও ২ ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর চলাচল করবে। এছাড়া ২৪ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪ চলবে।
পূজার ছুটিতে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে কয়েকটি ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধও বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১৯ ও ২০ অক্টোবরের অফ ডে বাতিল করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ১৯ অক্টোবর, পদ্মা এক্সপ্রেসের ২০ অক্টোবর এবং মধুমতি এক্সপ্রেসের ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে পূর্বাঞ্চলে ২৩টি মিটারগেজ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি ব্রডগেজ কোচ যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন ও সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের তদারকি বাড়ানো হবে। ট্র্যাক ও সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলপথে পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রিলিফ ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে আগামী ১৯ ও ২০ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হবে। চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে নাশকতা প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি এবং রেলওয়ের কর্মচারীদের নজরদারি ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সভায় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সেতু বিভাগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সংশ্লিষ্ট সচিব ও দপ্তরপ্রধান, ঢাকা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন