প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের স্ত্রী, দুই ছেলে এবং মেয়ের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিতে।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য প্রকাশ করেন।
দুদক জানায়, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ পাওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়েরকৃত একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামে বৈধ্য আয়ের চেয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর নামে-বেনামে অন্য কোনো গোপন সম্পদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একইভাবে, শেখ সেলিমের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ ফজলে ফাহিমের নামে আয়ের চেয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে একই ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।
অপর পুত্র শেখ ফজলে নাঈমের নামে বৈধ্য আয়ের চেয়ে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। তাঁর নামে-বেনামে থাকা সম্পদের বিস্তারিত তথ্য জানতেও একই আইনি ধারায় নির্দেশ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া, শেখ সেলিমের কন্যা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে আয়ের চেয়ে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বৈধ্য উৎসবিহীন সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর অর্জিত সম্পদের সঠিকতা নিরূপণ ও গোপন তথ্য উদঘাটনে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
দুদকের বিশেষ তদন্ত সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল নথিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা জানান, উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গকে তাদের বর্তমান ঠিকানায় না পাওয়ায় আদেশপত্র তাদের স্থায়ী ঠিকানায় লটকিয়ে (নোটিশ টানিয়ে) জারি করা হবে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অনুসন্ধানকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক মো. খায়রুল হক। এই দলের অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার এবং উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন