প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে (কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস) আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving Capacity) বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিডিজব প্ল্যাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রিপেয়ারিং ফর ইউর ক্যারিয়ার: এমপ্লয়ার এক্সপেক্টেশনস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইনসাইটস’ শীর্ষক ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মজীবনের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপাচার্য বলেন, "একটি রাষ্ট্রের পক্ষে সব নাগরিককে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত করার সক্ষমতা সীমিত।" তিনি উল্লেখ করেন, "দেশে যদি ৩০ লাখ বেকার থাকেন, তাহলে সরকার হয়তো একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।" তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করেন, "তাহলে বাকি মানুষের ভবিষ্যৎ কী হবে—এ প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই ভাবতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বর্তমান সরকার কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।" তাঁর মতে, এর মূল বার্তা হলো—নিজেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এমনভাবে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে চাকরির জন্য নিজেকে কেবল অপেক্ষা করতে না হয়; বরং কর্মক্ষেত্রই যোগ্যতার কারণে তাকে খুঁজে নেয়।" শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত এ সক্ষমতা অর্জন।
অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে সুপারিশ বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তার একাডেমিক ফলাফলই বিবেচ্য নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "রক্তদান কর্মসূচি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করেছে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।" শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষতা শাণিত করতে হবে। তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করলে কিংবা যেকোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি সতর্ক করেন, "একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving Capacity) না থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের জন্য কতটা উপযোগী—সেটিও বিবেচনায় আসে।"
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। কী-নোট স্পিকার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিডিজবস ডটকম লিমিটেডের ডিজিএম মোহাম্মদ আলী ফিরোজ।
প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সোসিও ইকোনমিক হেলথ এডুকেশন অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ড. মেহেদী হাসান, এনজিও সংস্থা ‘সেতু’র মাইক্রোফাইন্যান্স (MF) বা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক মো. আলাউল আলম এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির এজিএম ও শাখা প্রধান আবুল কালাম আজাদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন