প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদা প্রায় ৪০ বছর ধরে রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের হাতে রাজনৈতিক প্রচারপত্র তুলে দিচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও এই অভ্যাসটি বজায় রেখেছেন।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চিবা এলাকার মিনামি-ফুনাবাশি স্টেশনে নোদাকে দেখা গেছে। তার সরকারি কর্মসূচির অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেখানে প্রচারপত্র বিতরণের কথা ছিল। এবারের প্রচারপত্র বিতরণের সময় তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। যাত্রীদের হাতে সরাসরি প্রচারপত্র তুলে দিয়েছেন।
এই প্রচারপত্রে দুর্যোগ বীমা, শিশু সহায়তা ও প্রাদেশিক সংস্কারের মতো স্থানীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিছু যাত্রী নোদাকে চিনে তার কাছ থেকে প্রচারপত্র গ্রহণ করেন। আবার অনেকেই তাকে না চিনেই পাশ দিয়ে চলে যান।
নোদার স্টেশনে দাঁড়িয়ে প্রচারপত্র বিতরণের অভ্যাসটি ১৯৮৬ সালে শুরু হয়। তখন তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেননি। ১৯৮৭ সালে চিবা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষে নির্বাচিত হন।
নোদা পরে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পরও স্টেশনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই পদ্ধতি তিনি বন্ধ করেননি।
নোদার সরকারি ওয়েবসাইটে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কর্মসূচিতে বিভিন্ন রেলস্টেশনে সকালে প্রচারপত্র বিতরণের একাধিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র প্রচারপত্র বিতরণ করছেন এবং বক্তব্য দিচ্ছেন না।
জাপানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে প্রচারপত্র বিতরণ ও যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ঘটনা পরিচিত। তবে নোদার ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে তার দীর্ঘ সময় ধরে একই কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে।
প্রধানমন্ত্রীর মতো দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করার পরও প্রায় চার দশক ধরে একইভাবে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে প্রচারপত্র তুলে দেওয়ার এই অভ্যাস তার রাজনৈতিক জীবনের ভিন্ন একটি দিক তুলে ধরেছে।
সূত্র: দ্য গালফ নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন