প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে একাধিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য লার্ভিসাইড রাসায়নিক প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১১টি হলের চারপাশে এবং পুরো ক্যাম্পাসে ফগিং মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে সব আবাসিক হলে সম্পন্ন হবে এবং নিয়মিতভাবে চলতে থাকবে।
দেশে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে রুয়েট প্রশাসন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড সূত্রে জানা যায়, আজ ৬ অক্টোবর ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ঘটেছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৯৬ জন। চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত ২৮১ জন মারা গেছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৭ জন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত মাসের তুলনায় অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন এডিস মশার প্রজনন ও ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষা—দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে এবং বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই পানি জমে থাকতে পারে এমন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা, পানি অপসারণ করা এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে লার্ভিসাইড ব্যবহারের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণকে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। তাদের মতে, যেখানে পানি ফেলে দেওয়া বা সরানো সম্ভব নয়, সেখানে উপযুক্ত লার্ভিসাইড ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে ফগিং বা প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনকারী কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও সমন্বিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি।
এ বিষয়ে রুয়েট শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। আবাসিক হলের কক্ষ, বারান্দা, ছাদ, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, বোতল, বালতি কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে মশারি ব্যবহার, শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ডব্লিউএইচও এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলমান পরিস্থিতিতে মোকাবেলায় প্রশাসনের কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আবাসিক কক্ষ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সচেতনতাই মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন