প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। এক ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা এবং হত্যাকাণ্ড—দুই সম্ভাবনাই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এপস্টেইনের ভাই মার্ক এপস্টেইন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ মাইকেল ফ্রিম্যান তার ভাইয়ের ময়নাতদন্তের নথি বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আগামী ১৬ নভেম্বর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে এ বিষয়ে তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন। এর পরেই গবেষণা ও নিউইয়র্ক নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের ময়নাতদন্তের নথি প্রকাশ করা হবে।
মার্ক এপস্টেইন বলেন, ফ্রিম্যানের বিশ্লেষণ তার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, সেটি নতুন করে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার দাবি, যদি এ ধরনের বিশ্লেষণ আগে করা হতো, তাহলে হয়তো মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত করা হতো না।
মার্ক আরও জানান, প্রতিবেদনটি তার অনুরোধে করা হয়নি। গবেষকরা নিজেদের উদ্যোগে এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন।
ফ্রিম্যানের পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে কিছু বিষয়কে অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুর ঘটনাস্থলে এপস্টেইনের মরদেহের কোনো ছবি না থাকা এবং যে কাপড় বা ফাঁসের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি সংরক্ষণ বা পরীক্ষা না করা।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের ক্ষেত্রে বিছানার চাদর ব্যবহার করে ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ফ্রিম্যান ফাঁসের দাগের ধরন নিয়ে শারীরিক গতিবিদ্যার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি এমন কিছু ছবিও পর্যালোচনা করেছেন, যেগুলোতে চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা না করা কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেছেন।
তবে ফ্রিম্যান এখনই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা, নয়তো হত্যাকাণ্ড—দুটি সম্ভাবনার একটিই সত্য হতে পারে। তার আসন্ন বক্তব্যে দুই সম্ভাবনার পক্ষে থাকা প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
ফ্রিম্যান ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ্যার একজন অধ্যাপক এবং একটি আন্তর্জাতিক ফরেনসিক ও আইনবিষয়ক চিকিৎসা সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি মেরিল্যান্ডের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ের নিরীক্ষা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন।
২০১৯ সালে যৌন অপরাধের অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যু ঘটে। তখন তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে ফেডারেল মামলা চলছিল। নিউইয়র্কের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে।
তবে তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক বিদ্যমান। সম্প্রতি এপস্টেইনকে ঘিরে নথি প্রকাশের আইন কার্যকর হওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালে পাস হওয়া ওই আইনের আওতায় এপস্টেইন ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিপুলসংখ্যক তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে মে মাসে একজন ফেডারেল বিচারক এপস্টেইনের মৃত্যুর এক মাসেরও কম সময় আগে লেখা একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার চিঠি প্রকাশের নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে একটি হত্যা মামলার অংশ হিসেবে চিঠিটি আদালতে জমা দিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল।
এপস্টেইনের সাবেক কারাবন্দি নিকোলাস টারটাগ্লিওনি দাবি করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর পরদিন সকালে একটি বইয়ের ভেতর তিনি ওই চিঠিটি পান এবং পরে তাঁর আইনজীবীদের কাছে দেন।
হাতে লেখা ওই চিঠিতে দেখা যায়, এপস্টেইন লিখেছিলেন—তাকে এক মাস ধরে তদন্ত করেও কিছু পাওয়া যায়নি এবং ১৫ বছর আগের অভিযোগের কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে ‘বিদায় বলার সময়’ এবং ‘কোনো আনন্দ নেই—মূল্য নেই’—এ ধরনের কথাও লেখা ছিল।
এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন ফরেনসিক বিশ্লেষণ সামনে আসার পর সেই পুরোনো প্রশ্নগুলো আবার আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন