প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আপনি হয়তো ভাবছেন যে যেকোনো সাধারণ ওয়েবসাইটে খুঁজলেই সব বাড়ির খোঁজ পাওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নিউ ইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট বাজারের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কম্পাস’ বর্তমানে গোপন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একচেটিয়া ব্যবসা সম্প্রসারিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই ব্রোকারেজ হাউসটি এনওয়াইসি-র ম্যানহাটন এলাকায় রিয়েল এস্টেট বাজারের প্রায় ৮০% এবং অন্যান্য বড় নগরীগুলোতে ৬০% থেকে ৮০% পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা নিজেদের বিশাল ক্ষমতা ব্যবহার করে অসংখ্য বাড়ির তথ্য সাধারণ অনলাইন ডাটাবেজে প্রকাশ না করে গোপন রাখছে। ফলে, নির্দিষ্ট এজেন্টের মাধ্যমে না গেলে সাধারণ ক্রেতারা এসব বাড়ির কোনো খোঁজই পাচ্ছেন না।
আবাসন বিশ্লেষক জোনাথন মিলার এই পরিস্থিতিকে ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ক্রেতারা যখন কোনো ওয়েবসাইটে বাড়ি খোঁজেন, তখন তারা জানেনই না যে বিশাল সংখ্যার আবাসন গোপন রাখা হয়েছে। এটি মূলত ক্রেতাদের সাধারণ যেকোনো এজেন্টের কাছে যাওয়ার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে।’
কম্পাস দাবি করেছে, প্রথমে তাদের নিজস্ব এজেন্সির ভেতরের ৩ লাখ ৪০ হাজার এজেন্টের কাছে ‘প্রাইভেট এক্সক্লুসিভ’ হিসেবে গোপন রেখে বাড়ি বিক্রি করলে তা ৩৪% দ্রুত বিক্রি হয় এবং ৪.৬% বেশি দাম পাওয়া যায়। তবে সমালোচকেরা এই ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতারণা বলছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘নেক্সটহোম’-এর সিইও জেমস ডুইগিন্স মন্তব্য করেন, ‘পুরো উন্মুক্ত বাজারে বাড়ি প্রদর্শন না করলে কখনোই সঠিক বাজারমূল্য পাওয়া সম্ভব নয়।’ এর ফলে, কম্পাস মূলত ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষ থেকেই কমিশন নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সান ফ্রান্সিসকোর এক বিক্রেতা ক্যাটলিন বিগেলো জানান, তিনি প্রথমে কম্পাসের পরামর্শে তার ফ্ল্যাটটি গোপন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অফ-মার্কেটে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরে চুক্তি বাতিল হওয়ার পর, যখন তিনি তা সবার জন্য উন্মুক্ত সাধারণ ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত করেন, মাত্র ছয় দিনের মধ্যে তিনি তার ধারণার চেয়ে ১ লাখ ডলার বেশি দামে (২.১৫ মিলিয়ন ডলারে) ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, ‘উন্মুক্ত বাজারই আমাকে সবচেয়ে বেশি দাম পেতে সাহায্য করেছে; আমি কখনোই গোপন বিজ্ঞাপনের পরামর্শ দেব না।’
একইভাবে সাধারণ ক্রেতারাও সমস্যায় পড়ছেন। ফ্লোরিডার এক ব্যবসায়ী সেয়মেন উস্তা জানান, পছন্দের একটি বাড়ি তিনি সরাসরি গিয়ে পছন্দ করলেও সেটি কম্পাসের গোপন তালিকায় থাকায় তিনি কিনতে পারেননি। পরে বাড়িটি তার বাজেটের চেয়ে ৪০,০০০ ডলার কম দামে অন্য কারো কাছে বিক্রি হয়ে যায়।
এই বিতর্কিত ব্যবস্থার কারণে ওয়াশিংটন, উইসকনসিন ও কানেকটিকাটসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য অফ-মার্কেট ও গোপন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ বা সীমিত করার জন্য আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমনকি নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের অ্যান্টিট্রাস্ট (একচেটিয়া ব্যবসা প্রতিরোধ) বিভাগ ইতিমধ্যেই কম্পাসের এই মনোপলি বা একচেটিয়া কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন