প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কাশিয়ানী উপজেলা, গোপালগঞ্জ, একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এই পানিতে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা ফুল জন্ম নেয়। বর্ষাকালে, উপজেলার প্রায় তিন হাজার মানুষ শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের তেমন কোনো কাজ না থাকায়, অনেক কৃষক, বেকার এবং অন্যান্য পেশার লোকজন বর্তমানে শাপলা সংগ্রহের পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই শাপলা একদিকে সবজির চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে কাজ না থাকা বেকারদের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
উপজেলার সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া, শিল্টাসহ বিভিন্ন বিলে, খুব ভোরে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষরা নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করেন। কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায়, এই পেশা বেশ লাভজনক বলে মনে হচ্ছে।
শাপলা ফুল সাধারণত বর্ষায় ডুবে যাওয়া বোরো ধানক্ষেত, পাটক্ষেত ও আমন ধানক্ষেতে বেশি জন্মায়। শাপলা শুধু জাতীয় ফুলই নয়, বরং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে সবজি হিসেবেও জনপ্রিয়।
শাপলা বিক্রির জন্য উপজেলার রাহুথড়ে একটি পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফুটতেই, আশপাশের গ্রামসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শাপলা সংগ্রহকারীরা এখানে জড়ো হন। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে বাজার মুখরিত হয়ে ওঠে। শাপলা ফুলের সাদা আভায় পুরো বাজার আচ্ছাদিত হয়ে যায়। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়ায় বিক্রি করেন।
রাহুথড় শাপলার পাইকারি আড়তের ইজারাদার শংকর কুমার বসু জানান, "প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষরা শাপলা সংগ্রহ করে নৌকায় করে পাইকারি দামে বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসে।" পাইকাররা এসব শাপলা কিনে ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমন করে কাশিয়ানী সদরসহ যশোর, খুলনা, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়া নিয়ে বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ গাড়ী শাপলা এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় যায়।
শাপলা সংগ্রহকারী গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, "আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বর্ষাকালে শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ৫-৭শ’ টাকার শাপলা সংগ্রহ করতে পারি। ভোরে রাহুথড় বাজারে পাইকারি দামে বিক্রি করে দেই।"
কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এজাজুল করীম বলেন, "শাপলা একদিকে যেমন মানুষের পুষ্টির দাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। কাশিয়ানীর বিলাঞ্চলে বর্ষাকালে কোনো ফসল হয় না। তখন কৃষকদের কোনো কাজ থাকে না। তারা তখন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ যোগান। প্রায় তিন হাজার পরিবার শাপলা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।" সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন