প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তরুণরা কি দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হবে? কিছু দেশের রাজনীতিতে এখনো মনে করা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য চুল পাকা থাকা চাই, বয়সে ভারী হতে হবে এবং অভিজ্ঞতার ফাইলে মোটা পিএইচডি ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। কারণ, তরুণরা সাধারণত আবেগী, অনভিজ্ঞ বলে মনে করা হয় এবং ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত নন। তবে পৃথিবীর সব দেশ এই পুরোনো ধারণায় আটকে নেই। কিছু দেশ সেই সেকেলে বিশ্বাসকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চাবি তরুণদের হাতে তুলে দিয়েছে। বয়সে কম হলেও দায়িত্বে তারা বিশাল। কেউ র্যাপার থেকে রাজনীতির কেন্দ্রে, কেউ অর্থনীতিবিদ থেকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে, কেউ আবার সংকটের সময় রাজ্যের হাল ধরেছেন।
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর দিকে তাকালে ছবিটি কিছুটা আলাদা। যুক্তরাজ্যের রাজা, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের শীর্ষ নেতাদের বয়স তুলনামূলকভাবে প্রবীণ। তাদের বয়স সত্তরের ঘরেও দেখা যায়, যেখানে অভিজ্ঞতার দীর্ঘ ছায়া স্পষ্ট। তবে একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে তরুণ নেতাদের ভিন্ন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তারা পুরোনো রাজনীতির দেয়ালে নতুন রং লাগানোর প্রয়াস চালাচ্ছেন। কেউ অর্থনীতিতে নতুন ধারণার উদ্ভাবন করছেন। কেউ রাষ্ট্রকে সংকট থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ বিতর্ক এবং প্রত্যাশার মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন।
এই তালিকায় উঠে এসেছে নেপালের বালেন্দ্র শাহের নাম। তিনি রাজনীতিবিদ, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং র্যাপার হিসেবে পরিচিত। তরুণদের ভাষা, শহরের ছন্দ এবং রাজনীতির কঠিন বাস্তবতা সবকিছু মিলিয়ে তাঁর উত্থান অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ৩৫ বছর বয়সের এই নেতা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম তরুণ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন।
আইসল্যান্ডের ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোত্তিরও তরুণ নেতৃত্বের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তার অভিজ্ঞতা তাকে দ্রুত সামনে নিয়ে এসেছে। ৩৭ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা তার জন্য যেমন একটি বড় অর্জন, তেমনি দেশের জন্যও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত।
পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতে ইব্রাহিম ত্রাউরের উত্থান ঘটেছে একটি অস্থির সময়ের মধ্যে। সেনা পটভূমি থেকে উঠে আসা তিনি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বের সঙ্গে নিরাপত্তা সংকট, রাজনৈতিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বড় প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।
ইকুয়েডরের ড্যানিয়েল নোবোয়ার গল্পও ভিন্ন। তিনি মাত্র ৩৫ বছর বয়সে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ইকুয়েডরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের রেকর্ড গড়েন। তরুণ বয়সে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করা তার জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট।
মন্টেনিগ্রোর মিলোজকো স্পাজিচ তার অর্থ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রকের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন। ছোট পাহাড়ি দেশটির ভবিষ্যৎকে সামনে নিয়ে তার নেতৃত্ব এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিদেশিদের নজরে পড়েছে। স্যান ম্যারিনোর অ্যালিস মিনাউ তরুণ নেতৃত্বের এই ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ক্যাপ্টেন রিজেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব ছোট রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত।
ইতিহাসে আরও কম বয়সে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার নজির রয়েছে। হাইতির জঁ-ক্লোদ দুভালিয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্ষমতায় আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের থিওডোর রুজভেল্ট ৪২ বছর বয়সে রাষ্ট্রপ্রধান হন। যুক্তরাজ্যে উইলিয়াম পিট দ্য ইয়ংগার মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন