প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বিশ্বাস করেন, তার দেশে ফেরার সময়টা অনেকের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই কারণে কিছু মানুষ তাকে দেশে ফিরতে দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকফ্রেঞ্জিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, সাকিব দেশের ফিরতে চাওয়া, নিজের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবার ফিরতে চাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে পারলে সেটিই তার জন্য সবচেয়ে ভাল হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সাকিব। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক শিগগিরই নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ এক সময় ধরে তিনি দেশে ফিরতে পারেননি, যদিও পার্শ্ববর্তী কিছু দেশের লিগে তিনি নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।
সাকিব ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করেন, একবার দুবাই পর্যন্তও পৌঁছান, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়।
কবে দেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা জানাননি, কিন্তু আগে দ্রুত ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন মহলে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোন নিশ্চয়তা তিনি দেননি।
সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, "জানি না, আমি নিউজ অত শুনি না। সুতরাং আমার পক্ষে বলা মুশকিল। তবে আশা করি তাড়াতাড়ি। তাড়াতাড়ি হলে পরের মাসও হতে পারে, তারপরের মাসেও হতে পারে, ডিসেম্বরে হতে পারে, নভেম্বরে হতে পারে! (হাসি) কিন্তু যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই আমার জন্য ভাল।"
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার পর, টেস্ট এবং ওয়ানডে থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক অবসর নেননি সাকিব। বাংলাদেশের জার্সিতে তার শেষ টেস্ট খেলার পরিকল্পনা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে সেই ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার অনুমতি পাননি সাকিব।
দেশে ফিরতে না পারলেও, মিরপুরে নিজের শেষ ম্যাচ খেলার স্বপ্ন এখনও দেখতে থাকেন সাকিব। তার বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করা গেলে সেটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
দেশে ফিরলে পুরো ঢাকা ব্ল্যাকআউট হয়ে যাবে কিনা এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, "যদি আমার এরকম হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের স্পোর্টসের ইতিহাসে, এটা আমি জানি। এতে কোন সন্দেহ নাই। হয়তো এগুলো নিয়ে অনেকে ভয় পায়। এই কারণেই আমার এই সুযোগটা হচ্ছে না। যে আমি গেলে এরকম হবে কিছু। আমার ধারণা, এরকম ভয়গুলো মানুষ পাচ্ছে এবং এই কারণে আমাকে যেতে দিচ্ছে না।"
জাতীয় দলের হয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে মাঠে দেখা যাচ্ছে না সাকিবকে। তবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখনও রয়েছে তার।
তবে সাকিব মনে করেন, নিজের খেলার ইচ্ছার চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ দলে তার প্রয়োজন রয়েছে কিনা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অধিনায়ক ও নির্বাচকদের বলে জানান তিনি।
সাকিব বলেন, "আমি খেলতে চাওয়ার থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশি বাংলাদেশ দলে আমার দরকার আছে কিনা। এটা নির্বাচক, অধিনায়ক ভালো বুঝবে। তারা যদি মনে করেন (প্রয়োজন আছে) তাহলে তারা চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু এগুলো অনেক পরের বিষয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন