প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা বেড়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের জন্য বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার মধ্যে ঘটেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য এবং চলতি বছরের শেষ দিকে সুদের হারের গতিপথ মূল্যায়ন করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম আগের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮১ ডলার ৮৪ সেন্টে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের সোনার ফিউচার দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০২ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছেছে।
রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্কে ছাড় দেওয়ার ফলে দেশটি থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়তে পারে-এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলতে শুরু করেছেন। ফলে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমে এসেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। বিশেষ করে জ্বালানির, বিশেষ করে পেট্রলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির এই চিত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, যা সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন যে, সপ্তাহের শুরুতে সোনার দামে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। "মূল্যস্ফীতির দৃষ্টিকোণ থেকে তেলের দামে নরম প্রবণতা সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।"
তিনি আরও বলেন, "নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার স্পষ্টভাবে নিম্নমুখী হলে স্বর্ণের বাজার আরও ইতিবাচক পরিস্থিতি পেতে পারে।" এতে মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কমবে।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সুদের হার সংক্রান্ত বৈঠক এবং আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের দিকে। মূল্যস্ফীতির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২ শতাংশের সঙ্গে অর্থনীতির পরিস্থিতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা মূল্যায়নে পিসিই সূচককে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করে ফেডারেল রিজার্ভ।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তারা ৮৯ শতাংশ হিসেবে ধরছেন।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকে বিবেচনা করা হয়। তবে সোনা থেকে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের তুলনায় সোনার আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের মধ্যে অন্তত আরও একবার সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। শুক্রবার সংস্থাটি এ পূর্বাভাস দেয়।
সোনার পাশাপাশি সোমবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৫৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫১ ডলার ৬৭ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১২৭ ডলার ৫৯ সেন্টে পৌঁছেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন