প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তীকে মারধর, গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি প্রদান করে ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা।
এ ঘটনা ঘটে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে।
মৃন্ময় চক্রবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানার সময় ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা মৃন্ময়ের মাথায় চাপ দিয়ে ধরে শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। পরে কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রেখে প্রচুর গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেয়।
মৃন্ময় চক্রবর্তী বলেন, বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী আসার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামার কথা থাকলেও তা থামেনি। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানতে গেলে টিটি ও তার সহযোগীরা পিছন থেকে তার মাথার চাপ দিয়ে ধরে শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। এরপর কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রাখে।
তিনি আরও বলেন, এ সময় তারা তাকে প্রচুর গালিগালাজ করে এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেয়। তারা আরও বলে যে তার পড়ালেখা কীভাবে হয়, সেসব দেখবে। তার নামে মামলা হবে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু ট্রেনের টিটি বলে ভিসি, প্রক্টর, আম্মার এসে তারপর নিয়ে যাবে। এরপর ওসি স্যার আসেন এবং তিনি চেষ্টা করেন যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। কিন্তু ট্রেনের লোকজন বলে, আম্মার এসে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে নিয়ে যেতে হবে।
মৃন্ময় আরও জানান, পরবর্তীতে রাকসু প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলাম সাঈমকে জানালে তিনি এজিএস সালমান সাব্বির ভাইকে জানান এবং সালমান সাব্বির ভাই প্রশাসনের সাথে কথা বলে তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
তিনি বলেন, তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। মৃন্ময়ের ভাই ট্রেন থামার বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যে, তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামবে। তাহলে কেন আজকে থামলো না এবং কেন তাকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলো? তার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চান তিনি।
এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তারা রাজশাহী আসার সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হন। প্রথমে তারা আন্দাজ করতে না পারলেও পরে বুঝতে পারেন এটি ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীদের পরিকল্পিত ছিল। দুই তিন দিন আগে তারা দেখেছেন যে সাগরদাঁড়ি ট্রেন স্টেশন বাজারে থামছে। আজকে ট্রেন প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা লেট ছিল এবং বাইরে বৃষ্টিও হচ্ছিল। তারা বেশ কয়েকজন ছিলেন। চেইন টানার পরে যখন টিটি তাদের ধরে, তখন তারা সারেন্ডার করেন যে তারা ভুল করছেন। একটি অন্যায় তাদের হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, তখন তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গায়ে হাত দেয়। তাদের কথা ছিল যে তাদের ভুল হয়েছে, রেলের যে আইন আছে, সে অনুযায়ী চেইন টানলে ২০০ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে অন্যান্য শাস্তি। তাদের তো সেই শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে। কিন্তু কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে তারা শিক্ষা নিয়ে বাজে কথা বলবে? এই জাতীয় কথা বলা, গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়া এগুলো খুবই জঘন্য কাজ।
এর আগে, গত ২১ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে টিটি মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাকসু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়। এ সময় রাকসু ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রাথমিকভাবে পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন