প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে চতুর্থ শ্রেণির, কারণ ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে না পারা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত রিমা আক্তার (১৪) আন্ধারুপাড়া গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার কন্যা। রিমার বাবা ছোটবেলায় মারা যাওয়ার পর মা জহুরা বেগম তিন মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তিন বোনের মধ্যে রিমা ছিল দ্বিতীয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রিমা একটি ব্র্যাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্প্রতি তার বিয়ের জন্য পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে রিমা বিয়েতে রাজি ছিল না। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সে প্রতিবেশী এক তরুণকে পছন্দ করত। রিমার আত্মহত্যার কারণ হিসেবে একটি চিরকুটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সে ওই তরুণকে বিয়ে করতে পারেনি।
চিরকুটে রিমা লেখে, ‘মা-তুমি আরে মাফ কইরা দিও। আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তোমার মাথা ধরে যে আমি তোওবা কাটছি। তুমার কিছু হইলো তো আমারে কেউ ছাড়বো না, আমি মরলে কারো কিছু হয়তো না। মা-তুমি শুধু ভাবলা সম্পতির কথা, ভালো সংসার আর টাকা। কিন্তু মা-তুমি কি একবারও ভাবছিলা আমি তারে পাইলে সুখ পাবো।’
তিনি আরও লেখেন, ‘হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম। কারণ তারে যে আমি ভালোবাসি। তারে ছাড়া যদি তুমরা অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতা, সত্যি কইতাছি মরার মতো বাঁচতাম। আমারে মাফ কইরা দিও। এখানে কারো দোষ নাই। তাও যদি তুমরা তারে অপরাধী হিসাবে দোষ দেও তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পাইতাম না। ইতি, তোমার কপাল পোড়া রিমা।’
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে রিমার মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন