প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগের এক নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ ও অবস্থান নেন প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী। পরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে এবং এর ফলস্বরূপ আটক রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এটি ঘটে। আটক রিপন সরকার (৪০) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও হাবিবুর সরকারের ছেলে। তিনি পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুবলীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম পাটুলিপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতা সম্পৃক্ততার সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, টেবুনিয়া বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি খাসজমি ও ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলছিল। গ্রামবাসীর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, সরকারি জায়গা দখল করে ইউনুস সরকার সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরে গ্রামবাসী ঐ ঘরটি ভেঙে সেখানে পুনরায় মাছের বাজার বসান এবং স্থানটিকে ছোট বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণার পর ব্যানার টাঙান। অন্যদিকে, ইউনুস সরকার জায়গাটি নিজের দাবি করে রিপন সরকারসহ কয়েকজন গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
গ্রামবাসীর দাবী, ওই বিরোধে তাদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন রিপন সরকার। ধারণা করা হচ্ছে তাঁকে হয়রানি ও আন্দোলন থামাতেই পুলিশ আটক করেছে। তারা আরও দাবি করেন, ইউনুস সরকারের দায়ের করা অভিযোগের কারণে তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে। রিপন সরকারকে থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী ভাঙ্গুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁকে মুক্তির দাবি জানান। পুলিশ এই সময় বিক্ষোভকারীদের থানার চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি যুবলীগের সভাপতিকে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান।’
পরে বিক্ষোভকারীদের শীর্ষ পাঁচজনকে নিয়ে ওসির কক্ষে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল তাকে সঙ্গে নিয়ে থানার অঙ্গন থেকে বের হয়ে গ্রামে ফিরে যান।
তবে রিপন সরকারকে কেন আটক করা হয়েছিল এবং পরে কী বিবেচনায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সম্পৃক্ততা না পাওয়া ও গ্রামবাসীর বিক্ষোভ ও দাবীর কারণে তাঁকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন